বন্যায় ইন্দোনেশিয়া-থাইল্যান্ডে মৃতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়ালো
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুটি দেশ ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধস মিলিয়ে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। উভয় দেশে এখন পর্যন্ত মোট তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়ায় শোক ও আতঙ্কে জনমনে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা অস্বাভাবিক বন্যায় মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৪ জনে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখনও প্রায় ৮০ জন নিখোঁজ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর সুমাত্রা প্রদেশে শুক্রবার পর্যন্ত ১১৬ জনের প্রাণহানি নিশ্চিত হয়েছে। আচেহ ও পশ্চিম সুমাত্রাতেও বহু মানুষ মারা গেছেন। সুমাত্রার পাদাং পারিয়ামান এলাকার বড় অংশ এখনও অন্তত এক মিটার গভীর পানির নিচে থাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে ধীর গতিতে।
আরও পড়ুন: হংকংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ১২৮
বন্যায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া কয়েকটি অঞ্চলে এখনো উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে পারেননি। বাটাং তোরু এলাকায় সাতটি অজ্ঞাত মৃতদেহ গণকবরে দাফন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অব্যাহতভাবে উদ্ধারকাজ চালাতে বিমানযোগে সহায়তা পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা।
অন্যদিকে, থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। দেশটির সংখলা প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সংখলাই একশর বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। পানি কমতে শুরু করায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার অভিযান দ্রুততর হয়েছে এবং পানির নিচে ডুবে থাকা বহু বাড়ি থেকে নতুন লাশ উদ্ধার হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ছে।
আরও পড়ুন: লেবাননে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে নতুন হামলা চালাল ইসরাইল
থাই কর্তৃপক্ষ জানায়, যদিও বৃষ্টির মাত্রা কমেছে, তবু কিছু এলাকায় বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস থাকায় সতর্কতা জারি আছে। হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।





