গরমে ফ্যাটি লিভার রোগীদের বাড়তি ঝুঁকি, বিশেষ সতর্কতার পরামর্শ

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৩৭ অপরাহ্ন, ২৪ মে ২০২৬ | আপডেট: ১:৩৪ পূর্বাহ্ন, ২৫ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ফ্যাটি লিভারকে অনেকেই শুধু স্থূলতা বা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সমস্যা হিসেবে দেখেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোগ শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতাকেও দুর্বল করে দেয়। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে তাপ, আর্দ্রতা এবং খাবারে দ্রুত ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধির কারণে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে গেলে ফ্যাটি লিভার রোগীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা পুষ্টি প্রক্রিয়াকরণ, বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ফ্যাটি লিভারের কারণে লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমে এই কার্যক্রম ধীরে ধীরে ব্যাহত হয়। ফলে দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে শরীরে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা টক্সিন প্রবেশ করলে লিভার সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হিমশিম খেতে পারে।

আরও পড়ুন: পানি পান করেও শরীরে পানিশূন্যতা? জেনে নিন ডিহাইড্রেশনের ৫ অজানা লক্ষণ

গ্রীষ্মকালে অনুপযুক্তভাবে সংরক্ষিত খাবার, বারবার গরম করা বাসি খাবার, রাস্তার পাশের খোলা খাবার এবং দূষিত পানির কারণে সালমোনেলা, ই. কোলাইসহ বিভিন্ন জীবাণুর সংক্রমণ বেড়ে যায়। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ ও ই ভাইরাসের ঝুঁকিও বাড়ে।

‘টাচ এন্ডোক্রিনোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ফ্যাটি লিভারের রোগীদের ক্ষেত্রে খাদ্যে বিষক্রিয়া অতিরিক্ত প্রদাহ, ডিহাইড্রেশন, ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা এবং বিপাকীয় অস্থিতিশীলতার কারণ হতে পারে। যাদের ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ কোলেস্টেরল বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের ঝুঁকি আরও বেশি।

আরও পড়ুন: অপর্যাপ্ত ঘুমে শিশুদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব, বলছে গবেষণা

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, গরমে বমি, ডায়রিয়া বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে লিভারে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হতে পারে এবং প্রদাহ বাড়তে পারে। এছাড়া চিনিযুক্ত পানীয়, অ্যালকোহল বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করলে লিভারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।

ফ্যাটি লিভার রোগীদের জন্য গরমকালে টাটকা রান্না করা খাবার খাওয়া, বিশুদ্ধ পানি পান, খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ, হাত পরিষ্কার রাখা এবং কাঁচা বা খোলা খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি রাস্তার পাশের খাবার কম খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি ও ডাবের পানি পান করে শরীর আর্দ্র রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।