এসডিজি অর্জনে ইসলামি এনজিওগুলোর ভূমিকাকে স্বীকৃতিদানের আহ্বান
ইসলামি এনজিওগুলো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে। সমাজে মানবিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতি টিকিয়ে রাখছে। সমন্বিত উন্নয়নে বহুমাত্রিক ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও সংবাদমাধ্যমের খবরে আসছে না, সরকারের রিপোর্টিং সিস্টেমেরও বাইরে থাকছে। ক্ষুদ্র স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগসহ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ের দান-খয়রাত, যাকাত, সদকা, ওয়াক্ফ, শিক্ষা সহায়তা বা মানবিক সেবা এবং ধর্ম-ভিত্তিক সংগঠনের সেবাধর্মী-কল্যাণমুখী কর্মকান্ডকে মূল্যায়নের বাইরে রাখা উদ্বেগজনক। এগুলোকে ন্যাশনাল ফ্রেমওয়ার্কে যুক্ত করে কার্যক্রমগুলো মূল কাঠামোতে নিয়ে আসতে হবে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি) আয়োজিত “দ্য ইনভিজিব্ল হ্যান্ড অব ডেভেলপমেন্ট: রেকগনাইজিং দ্য হিডেন রোল অব স্মল-স্কেল ফিলানথ্রপি ইন অ্যাডভান্সিং দ্য সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস (এসডিজিস)” শীর্ষক সেমিনারের মূল প্রবন্ধে সৌদি আরবের কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের সিনিয়র অ্যাডভাইজর ড. মোহাম্মদ মিল্লাতে মুস্তফা এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: তারেক রহমানের দেশে ফিরতে সরকারের কোনো আপত্তি নেই: প্রেস সচিব
ঢাকার উত্তরাস্থ বিআইআইটি অডিটোরিয়ামে ২৯ নভেম্বর, শনিবার অনুষ্ঠিত সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে বিআইআইটি’র মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এম. আবদুল আজিজ বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রাকে এগিয়ে নিতে ইসলামি এনজিওগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অথচ এসব অবদানকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি দেয়া সময়ের অপরিহার্য দাবি। ইসলামি এনজিও’র উদ্যোগকে সমন্বয় করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের অর্জনকে বাড়াতে হবে; জাতীয় পর্যায়ে নীতি নির্ধারণ, সমন্বয় ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার তদারকি করার কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সকল পর্যায়ের দাতব্য কাজই সমাজ উন্নয়ন ও এসডিজি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এসব নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এগুলো রিপোর্টে নেই, কাগজে নেই, কিন্তু মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন ঘটায়।
ড. মোহাম্মদ মিল্লাতে মুস্তফা বলেন, উন্নয়ন শুধু বড় প্রকল্পের গল্প নয়; উন্নয়ন হলো মানুষের সদিচ্ছা ও ক্ষুদ্র দানের শক্তির গল্প। মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনলে দীর্ঘমেয়াদে সমাজের উন্নয়নচক্রকে এগিয়ে নেয়। এসডিজি অর্জনে জোড়ালো নীতি, আন্তর্জাতিক তহবিল যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন- মানুষের হৃদয়ের ছোট ছোট দয়ার কর্মকাণ্ড। ক্ষুদ্র দাতব্য কর্মকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, স্থানীয় নেতৃত্ব ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে আরও কার্যকর এবং যথাযথ তথ্যপ্রযুক্তি, স্বচ্ছতা ও নীতি–সহায়তার মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করতে হবে। যারা সমাজের মূল উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে, মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন ঘটাচ্ছে; তাদের অবদানকে মূলধারায় আনতে উপযুক্ত রিপোর্টিং সিস্টেম ও বিকল্প ফ্রেমওয়ার্ক দিতে হবে। সমন্বিত উন্নয়ন সফল করতে প্রয়োজন- কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি, স্থানীয় বাস্তবতা বোঝা, স্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্ত করা, তথ্য নেটওয়ার্ক তৈরি করা, কমন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা এবং মাইক্রো-ডোনেশনের প্রভাব পরিমাপক টুলস ও টেকনিকস তৈরি করা।
আরও পড়ুন: ‘ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা’
প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলাম দেড় হাজার বছর আগে এমন বিধান, শিক্ষা ও মেকানিজমের কথা বলেছে যা অধিকাংশ এসডিজির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়ক। সম্পদ ও পানির অপচয় রোধ করা ও পরিবেশের যত্ন নেওয়া- এই বিষয়গুলো ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামী অর্থনীতিও দারিদ্র্য হ্রাস ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করে। ইসলামের সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইসলাম প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, সংরক্ষণ ও অপচয় নিষিদ্ধ করে। ইসলামের ইনসাফ ও ন্যায্যতার ধারণা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও স্ব-ক্ষমতার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সমতার ধারণা, মানবাধিকার লংঘন ও পরিবেশ সুরক্ষা এবং এসবের পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে ভিন্ন আলাপও হতে পারে।
সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম) এর হেড অব অপারেশন কাজী আহমাদ ফারুক, অরণ্যক ফাউন্ডেশন এর সাবেক নির্বাহী পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) এর অধ্যাপক ড. শামসুদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহাব উদ্দিন এবং মুসলিম এইড বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমান চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন গবেষক, নীতি–বিশ্লেষক, উন্নয়ন কর্মী ও শিক্ষাবিদগণ।





