জুবাইদা রহমানের জন্য প্রস্তুত ধানমণ্ডির মাহবুব ভবন

Monzu
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:১১ অপরাহ্ন, ০৪ মে ২০২৫ | আপডেট: ৬:২২ পূর্বাহ্ন, ০৫ মে ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ডা. জুবাইদা রহমানের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ধানমন্ডির ‘মাহবুব ভবন’। আগামী মঙ্গলবার শাশুড়ি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেশে ফিরছেন তিনিও, যিনি ১৭ বছর আগে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে স্বামী তারেক রহমানের সাথে ঢাকা ছেড়েছিলেন। সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খানের বাসা ধানমন্ডির ৫ নং সড়কে এই ‘মাহবুব ভবন’। এখানে এখন তার সহধর্মিণী সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু এবং বড় মেয়ে শাহীনা জামান ও তার পরিবার বসবাস করেন। সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু গত কয়েকদিন আগে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ছোট মেয়ে ডা. জুবাইদা রহমান ঢাকায় এসে বাবার বাসায় উঠবেন বলে বাসার নিরাপত্তা ও সাজ সজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওয়াইফ ডা. জুবাইদা রহমান আসবেন এই বাসায় সেজন্য বাসার সাজ-সজ্জা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পানি-বিদ্যুৎ-গ্যাস, জেনারেটর প্রভৃতি কাজ চলছে। ইনশাল্লাহ উনি (জুবাইদা রহমান) আসার আগেই এই বাসার সব কাজ-কর্ম শেষ হবে। ওনাকে রিসিভ করার জন্য বাসা প্রস্তুত হয়ে যাবে।

১৭ বছর আগে ডা. জুবাইদা রহমান দেশ ছেড়েছিলেন একমাত্র মেয়ে ছোট জাইমাকে নিয়ে স্বামী তারেক রহমানের সাথে। এক-এগারোর সরকার এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনা সরকারের রোষানলে পড়েছিলেন স্বামীর সাথে জুবাইদাও। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান, তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান ও জুবাইদা রহমানের মা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এই মামলায় জুবাইদা রহমানকে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ৩৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন ঢাকার একটি আদালত। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতের ওই সাজা স্থগিত হয়ে যায়। 

আরও পড়ুন: মায়ের সংকটাপন্ন অবস্থায় দেশবাসীর উদ্দেশ্যে যা বললেন তারেক রহমান

মাহবুব আলী খানের দুই মেয়ের মধ্যে ডা. জুবাইদা রহমান ছোট সেজন্য বাবা-মায়ের খুব আদরের। জন্ম সিলেটে। পড়ালেখা করেছেন ঢাকায়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হওয়ার পর বাবা-মায়ের আগ্রহে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। তিনি সেখান থেকে এমবিবিএস পরীক্ষায় সর্বোচ্চ মেধায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৯৫ সালে বিসিএস দিয়ে কর্ম জীবন শুরু করেন সরকারি চিকিৎসক হিসেবে। জুবাইদা বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস-স্বাস্থ্য) পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। ২০০৮ সালে শিক্ষা ছুটি নিয়ে লন্ডন যাওয়া পরে শেখ হাসিনার সরকার তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। লন্ডন যাওয়ার পরে জুবাইদা ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে মেডিসিনে স্নাতকোত্তর-এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। জুবাইদা রহমানের বাবা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ১৯৭৮ সালের ৪ নভেম্বর থেকে ১৯৮৪ সালের ৬ আগস্ট পর্যন্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশের নৌবাহিনীর প্রধান ছিলেন। এরপর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকারের সময়েও তিনি যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী জুবাইদা রহমানের চাচা।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন মাহবুব ভবনের পুরো কাজ-কর্ম তদারকি করছেন। তিনি বলেন, আপনি দেখতেই পারছেন মাহবুব ভবন এমনিতেই পরিপাটি একটি বাসা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। তারপরও আমাদের চেয়ারম্যান সাহেবের স্ত্রী জুবাইদা রহমানের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বাসার ভেতরে এবং বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক করেছি। বাসার চারপাশে দেয়ালের ওপরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তার ব্যবস্থার সাথে জড়িত পুলিশ সদস্য ছাড়াও বিএনপি চেয়ারপারসনের সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ) সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এই বাসার চারপাশে দেয়াল রয়েছে। বাসার আঙিনায় সামনের দিকে রয়েছে ফুলের বাগান। আছে নিরাপত্তায় কর্মীদের জন্য গার্ড রুম। রুমন বলেন, বাসভাবনের তিন দিকে বিভিন্ন জনের বাসা-এপার্টমেন্ট রয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাহেব বলেছেন, আমাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন, নিরাপত্তার নামে এমন কিছু করতে যেও না, যাতে প্রতিবেশীদের কোনো অসুবিধা হয়, যাতে মানুষজনকে ডিস্টার্ব না করা হয়। যেমন পেছনের দিকে দেয়ালের পাশে ওই ভবনের বারান্দাটা একেবারেই দেয়াল ঘেষে। ওনারা (প্রতিবেশীরা) ১৭ বছর কিছু করেননি, এখনো তারা কিছু করবেন না, তাদের ডিস্টার্ব করে আমাদের যেন আরাম করা না হয়। বুঝতেই পারছেন চেয়ারম্যান সাহেব যেমনটি চান এই বাসার পরিবারের সদস্যরা ঠিক সেটাই আমাদেরকে বলেছেন। সব দিক বিবেচনায় রেখে আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজিয়েছি। জুবাইদা রহমানের জন্য আলাদা গাড়ি ও তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যদেরও গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন: খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন এনসিপি নেতারা

ইতিমধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে জুবাইদা রহমানের নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে জানিয়ে সশস্ত্র গানম্যান, পুলিশ প্রটেকশন, বাসায় পুলিশ পাহারা, আর্চওয়ে বসানোর জন্য চিঠি দিয়েছেন। রুমন জানান, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে এই বাসভবন দেখে করণীয় ঠিক করে গেছেন।