প্রস্তুত অত্যাধুনিক এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিতে চিকিৎসকদের 'গ্রিন সিগনাল' এর অপেক্ষা

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:২৯ অপরাহ্ন, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ৭:২৯ অপরাহ্ন, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অনুমোদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের পরিবার ও একাধিক দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে লন্ডনের যে হাসপাতালে তার চিকিৎসা হয়েছিল সেখানেই আবারও নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিদেশ নেওয়ার মত অবস্থায় নেই খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল

তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে বলেও জানা গেছে। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপার্সনের জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেই পরিবারের সদস্যরা তাকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

আরও পড়ুন: কারাগারে বেগম জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়: মির্জা আব্বাস

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে মি. আমিন জানিয়েছেন, "লন্ডনের যে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের অধীনে চার মাস থেকে তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন, তাঁদের সঙ্গে ইতিমধ্যে যোগাযোগ করেছেন তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী।"

দেশে যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করছেন তাদের গ্রিন সিগনাল বা অনুমতি পেলেই তাকে দেশের বাইরে নেয়া হবে। এরই মধ্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থার জন্য কাতার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

নতুন করে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত রোববার হাসপাতালে ভর্তি হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন, ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের গুরুতর সংক্রমণ নিয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া মাহফিল হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এক বিশেষ সভায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।

এছাড়া বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি খালেদা জিয়ার শারিরীক অবস্থার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে গেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও।

শনিবার সকালে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে দেখতে যান এনসিপির নেতারা। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে দলটির মূখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, সংকটাপন্ন হলেও স্থিতিশীল রয়েছে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা। তিনি চিকিৎসক ও নার্সদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারছেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পরেই চিকিৎসকদের উদ্ধৃত করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে খালেদা জিয়ার অবস্থা 'সংকটময়'।

মি. আলমগীর শুক্রবার বিকেলে ও পরে রাতে আবার হাসপাতালে গিয়ে দীর্ঘসময় অবস্থান করেছেন।

বিকেলে ও রাতে তার সাথে বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান ও বরকত উল্লাহ ভুলুসহ স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটির বেশ কিছু নেতা উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ ভুলু সাংবাদিকদের বলেছেন, "খালেদা জিয়া জীবন সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন। তবে চিকিৎসক যা বললেন তাতে আগের দিনের চেয়ে একটু ভালো অবস্থায় আছেন। সবাই দোয়া করবেন তিনি যেন সুস্থ হয়ে ফিরে আসতে পারেন"।

প্রসঙ্গত, শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় গত রোববার জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল খালেদা জিয়াকে।

এর আগে একুশে নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রওনা দিয়ে গাড়িতে ওঠেই অস্বস্তি বোধ করছিলেন তিনি।

বহু বছর ধরেই তিনি লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস এবং চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।

ঢাকায় নিজের বাসায় থাকা অবস্থাতেই ২০২১ সালের মে মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেন তিনি। তখনো শ্বাসকষ্টে ভোগার কারণে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল।

এরপর ২০২৪ সালের জুনে তার হৃদপিণ্ডে পেসমেকার বসানো হয়। তখনো তিনি মূলত হার্ট, কিডনি ও লিভারসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগছিলেন, যা তার শারীরিক অবস্থাকে জটিল করে তুলেছিলো।

এর আগে থেকেই তার হার্টে তিনটি ব্লক ছিল। আগে একটা রিংও পরানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের জুনে পোর্টো সিস্টেমেটিক অ্যানেসটোমেসির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার লিভারের চিকিৎসাও দেয়া হয়েছে বিদেশ থেকে ডাক্তার এনে।

আওয়ামী লীগ আমলে ২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলো আদালত, তারপর থেকে প্রথমে কারাগারে বিশেষ ব্যবস্থায় ও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। দুর্নীতির আরেকটি মামলাতেও তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরে হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই নির্বাহী আদেশে বিশেষ শর্তে মুক্তির পর তিনি গুলশানের বাসায় উঠেন।

২০২৪ সালে অগাস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৬ই অগাস্ট রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে তাকে সব দণ্ড থেকে পুরোপুরি মুক্তি দেওয়া হয়।


সূত্র: বিবিসি বাংলা