টঙ্গীতে ৫ দিনের জোড় ইজতেমা, দ্বিতীয় দিনে লাখো মুসল্লির সমাগম
গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে শুক্রবার বাদ ফজর বাংলাদেশের মাওলানা ওমর ফারুকের আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ৫ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা। শীর্ষ মুরুব্বিদের আমবয়ান, আমল ও কারগুজারির মধ্য দিয়ে জোড় ইজতেমা আজ দ্বিতীয় দিন চলছে।
আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতিমূলক অংশ হিসেবে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে শুরু হওয়া পাঁচ দিনের জোড় ইজতেমায় মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।গত শুক্রবার শুরু হওয়া এই জোড় ইজতেমা আজ শনিবার দ্বিতীয় দিন। এরই মধ্যে ইজতেমা ময়দানের উত্তর প্রান্তে লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি তাবলীগ জামাতের পুরোনো সাথী ও ওলামায়ে কেরামী সমবেত হয়েছেন। দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টিকারী এই ৫ দিনের জোড় ইজতেমায় দেশের ৬৪টি জেলা থেকে প্রায় ২ লাখ পুরাতন সাথী ও ওলামায়ে কেরাম ইতোমধ্যে উপস্থিত হয়েছেন। বয়ান মঞ্চ থেকে বিভিন্ন দেশের প্রাজ্ঞ আলেমগণ দাওয়াত, তালীম ও আত্মশুদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করছেন।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে আবাসিক হোটেল থেকে মরদেহ উদ্ধার
এখানে গত এক বছরে দাওয়াতের কাজের 'কারগুজারী' (কৃত কাজের বিবরণ) বড়দের শোনানো হয় এবং মুরুব্বীরা শোনেন। এরপর আগামী এক বছর কীভাবে কাজ করতে হবে, সেই বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়ার হয়। তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ী নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "তাবলীগের কাজের সৌন্দর্য বড় আয়োজন নয়, বরং সবার ইখলাস, নিঃস্বার্থ নিয়ত, খেদমত ও দাওয়াতি ত্যাগ। জোড় ইজতেমা নতুন–পুরোনো সবাইকে আত্মগঠনের এক অনন্য সুযোগ এনে দেয়। এবারের জোড় ইজতেমায় অংশ নিতে বিশ্বের ১৯টি দেশের মোট ৭০০ জন বিদেশি মেহমান বর্তমানে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে অবস্থান করছেন। মেহমান আসা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান, ভারত, কিরগিস্তান, কানাডা, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ইয়েমেন, চীন, সৌদি আরব, তিউনিসিয়া, যুক্তরাজ্য, ইতালি, নাইজার, আফগানিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, জাপান, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়া। হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, বিদেশি মেহমানদের জন্য বিশেষ ভাষাগত তালীম, নিরাপত্তা এবং মৌলিক সেবাসহ সবধরনের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে তারা নির্বিঘ্নে দাওয়াতি কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন। জোড় ইজতেমায় আশরাফ আলী (৬০) নামে আরও এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোরে স্ট্রোক করে ইজতেমা ময়দানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নিহত আশরাফ আলী জামালপুর জেলার সদরের কেন্দুয়া গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে। এ পর্যন্ত জোড় ইজতেমায় আগত ৩ জন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ী নেজামের মিডিয়া সমন্বয় হাবিবুল্লাহ রায়হান। তিনি জানান, আশরাফ আলী সাথীদের সাথে তাদের জন্য নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান করছিলেন। রাতে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে ভোরে সাথীরা ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জোড় ইজতেমাকে কেন্দ্র করে মুসল্লিদের জন্য গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে মুসল্লিদের অজু-গোসল এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন। আল্লাহর ধবনিতে মুখর টঙ্গীর ময়দানে প্রতিটি খিত্তায় বয়ান চলছে এবং 'নগদ চিল্লার জামাত' বের করার প্রস্তুতি চলছে। আগামী ২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এবারের ৫ দিনের জোড় ইজতেমা সমাপ্ত হবে।





