নবীনগরে ফুটপাতে পিঠা বিক্রির হিড়িক

Sadek Ali
ফরিদ আহমেদ,নবীনগর
প্রকাশিত: ৪:২৬ অপরাহ্ন, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ৪:৫০ অপরাহ্ন, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় শীত মৌসুমের শুরুতেই পিঠ বিক্রির হিড়িক পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন লোকালয়ে চলছে পিঠা বিক্রির হিড়িক। এ ব্যবসায় অনেকেই ভাল আয় করছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সুদন ও মনোয়ারা জানায়। এ ব্যবসায় তেমন বেশি পুঁজি লাগে না। জ্বালানী হিসেবে লাকড়ি, কিছু গুড়, নারিকেল ও চাউলের গুড়া দিয়ে শুরু করা হয় এ ব্যবসা।

পিঠা ব্যবসায়ীদের লাকড়ীর পরিবর্তে গ্যাসের চুলা ব্যবহার করতে ও দেখা যাচ্ছে। উপ-জেলার হাইস্কুল গেইট, লঞ্চ ঘাট,  পৌরসভা ও ২১টি ইউনিয়নের হাট-বাজার গুলোতে শীত মৌসুমের জমজমাট ভাঁপা, চিতই, পুলি, ডিমপিঠা, মেরা পিঠার ব্যবসা শুরু হয়েছে। ক্রেতাদের সংখ্যা চোখে পড়ার মত। এ ব্যবসা চলে বিকাল থেকে  রাত পর্যন্ত, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে। কেউ টুলে বসে কেউ বা দাঁড়িয়ে পিঠা খায়, আবার অনেকে বাড়ির জন্য ও নিয়ে যায়। চিতই পিঠার সাথে ধনিয়া পাতা, মরিচ, সরিষা, শুঁটকি বাটা দিয়ে ও পিঠা বিক্রি করে।

আরও পড়ুন: মাধবপুরে আ.লীগ নেতা হেলাল গ্রেফতার

এক একটি পিঠার দাম নেয়া হয় ১০ থেকে ২০ টাকা। পিঠা তৈরীর বেশির ভাগ দোকানের ব্যবসায়ী হয় মহিলা, পাশাপাশি পুরুষরা ও তৈরি করে। পিঠা বিক্রেতা নুরজাহান বেগম জানান, প্রতি বছর শীত এলেই আমরা পিঠা বিক্রি শুরু করি। শীতের প্রকোপ যত বেশি থাকে পিঠা বিক্রি ও বেড়ে যায়। প্রতি দিন বিকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এক থেকে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করি। যে পিঠায় গুড় ও নারকেল দেয়া হয় সে সব পিঠার ক্রেতা বেশী।

পিঠা খেতে আসা মানুষ জানান, শীতের সময় ভাঁপা ও চিতই পিঠা খাওয়ার মজাই অন্য রকম। গরম গরম ভাঁপা পিঠা দেখলে লোভ সামলানো দায়। তারেক নামক এক ক্রেতা জানান, কর্মব্যস্ততার কারণে বাসায় পিঠা তৈরি করে খাওয়া অধিকাংশ সময়ই সম্ভব হয় না। ফলে রাস্তার পাশের দোকান থেকে কিনে খেতে হয়। তবে পিঠা যারা তৈরি করেন তারা যেন ধুলা বালি থেকে রক্ষা করে স্বাস্থ্য সম্মত ভাবে পিঠা তৈরি করেন।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে অর্ধকোটি টাকার ভারতীয় প্রসাধনী উদ্ধার, আটক ১

সাধারণত চাউলের গুঁড়ার সাথে নারিকেল, খেজুর গুড় মিশিয়ে তৈরি করা হয় ভাঁপা পিঠা। প্রতি দিন অন্তত ২ থেকে ৩ শত পিস পিঠা বিক্রি করেন একজন বিক্রেতা। উপ-জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, রাস্তার পাশে খোলা বাজারে তৈরি পিঠাতে ধুলা-বালি সহ নানা রকম জীবাণু লেগে যেতে পারে। যা হতে পারে পেপটিকালচার ডিজিজ, ডায়রিয়া, টাইফয়েড সহ নানা ধরনের কঠিন শারীরিক সমস্যার কারণ। তাই পিঠা তৈরি ও তা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।