আবারও অবরোধ তেজগাঁও কলেজ শিক্ষার্থীদের, তীব্র যানজট

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩৮ অপরাহ্ন, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১:৫৯ অপরাহ্ন, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আবারও রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছেন তেজগাঁও কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে সহপাঠী সাকিবুল হাসান রানার হত্যার বিচার ও হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে  তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের অবরোধের ফলে ফার্মগেট এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে ফার্মগেটে নামা যানবাহন এবং ফার্মগেট থেকে খামারবাড়ির দিকে প্রবেশকারী সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে করে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সাকিব হত্যাকাণ্ডের এক মাসের বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত মামলার কোনো দৃশ্যমান বিচারিক অগ্রগতি নেই। খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুন: এসএসসি ২০২৬ এর প্রবেশপত্র বিতরণের তারিখ ঘোষণা

অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীদের ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে পারে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি একই দাবিতে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা ফার্মগেট মোড় অবরোধ করেন। ওই দিন পুলিশের মধ্যস্থতায় ছয় সদস্যের একটি শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে গিয়ে স্বরাষ্ট্র ও আইন উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান রাফি, সাইফুর রহমান, ফাজাল আহমেদ, আবু বক্কর সিদ্দিক, শরীফ ইসলাম, মিলিহা বিনতে নাফিজ ও আরিফুল আলম।

আরও পড়ুন: চবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হাবীবের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

সেদিন সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে আব্দুর রহমান রাফি জানান, উপদেষ্টাদের বক্তব্যে তারা সন্তুষ্ট হলে আর কোনো কর্মসূচিতে যাবেন না। তবে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৬ ডিসেম্বর রাতে তেজগাঁও কলেজের ছাত্রাবাসে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত তিনজন শিক্ষার্থী আহত হন। গুরুতর আহত হন উচ্চমাধ্যমিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা। পরে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হলে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফার্মগেট এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানালেও আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিতে অনড় রয়েছেন।