হুথিদের হামলায় সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর ৫৮ সদস্য নিহত

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৪১ অপরাহ্ন, ০৭ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪১ অপরাহ্ন, ০৭ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর অন্তত ৫৮ সদস্য নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) চালানো এ হামলায় আরও কয়েক ডজন সেনা আহত হয়েছেন বলে একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, সৌদি আরবের সমর্থনে সরকারি বাহিনীর কথিত সামরিক প্রস্তুতির জবাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে বিভিন্ন সামরিক অবস্থানে হামলা চালানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভারতে ফ্রি প্রশিক্ষণের সুযোগ

একটি সামরিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, হামলায় অন্তত ৫৮ সরকারি সেনা নিহত এবং আরও বহু সেনা আহত হয়েছেন। এর আগে চিকিৎসা সূত্রে নিহতের সংখ্যা ৩৮ জন বলা হয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনও নতুন করে যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম

এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, ২০২২ সালের পর ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর ওপর এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, সশস্ত্র বাহিনী ‘উপযুক্ত সময় ও স্থানে’ এই হামলার জবাব দেবে।

সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, মধ্য ইয়েমেনের মারিব প্রদেশের আল-রুওয়াইক এলাকার একটি সামরিক ঘাঁটি ছাড়াও সৌদি সীমান্তসংলগ্ন হাদরামাউত প্রদেশের আল-আবর ও আল-ওয়াদিয়াহ এলাকার সামরিক শিবিরগুলোতে হামলা চালানো হয়।

একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মারিবের একটি ঘাঁটিতে সকালের সমাবেশ চলাকালে সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে অন্তত ৪৫ সেনা নিহত ও আহত হন।

হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি আল-রুওয়াইক, আল-থানিয়াহ ও আল-আবর এলাকায় হামলার কথা উল্লেখ করে বলেন, যেকোনো ধরনের উত্তেজনা মোকাবিলায় তাদের বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে হুথিদের উত্তেজনা বেড়েছে। রাজধানী সানায় একটি ইরানি বিমান অবতরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। পরে হুথিরা সৌদি বন্দরের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে এবং সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো শুরু করে।

গত মাসেও হোদেইদা বন্দরের দক্ষিণে সরকারি বাহিনীর ওপর হুথিদের হামলায় ১৬ সেনা নিহত হয়।

২০১৪ সাল থেকে হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে আসছে। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং দেশটি ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়েছে।

বর্তমানে হুথিরা রাজধানী সানা ও উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দক্ষিণাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

যদিও ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক মেয়াদ শেষ হয়েছে, তবুও সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত বড় ধরনের সংঘর্ষ অনেকটাই সীমিত ছিল।

সূত্র: গালফ নিউজ