আজ ন্যাশনাল বয়ফ্রেন্ড ডে, কীভাবে শুরু হলো এই দিবস?

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:০৩ অপরাহ্ন, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৩ পূর্বাহ্ন, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভালোবাসার মানুষটির প্রতি কৃতজ্ঞতা ও যত্ন প্রকাশের উপলক্ষ হিসেবে প্রতি বছর ৩ অক্টোবর পালিত হয় ‘ন্যাশনাল বয়ফ্রেন্ড ডে’। তবে এটি কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক জাতীয় দিবস নয়; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক একটি অনানুষ্ঠানিক উদযাপন।

প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো, ভালোবাসার কথা বলা কিংবা ছোট্ট কোনো উপহার দিয়ে তাকে বিশেষ অনুভূতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন অনেকে। কেউ কেউ আবার সঙ্গীর সঙ্গে তোলা ছবি ও ভালোবাসার বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: আজ আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস

একজন বয়ফ্রেন্ড শুধু প্রেমের সঙ্গী নন, অনেক সম্পর্কেই তিনি কাছের বন্ধু, আস্থার মানুষ ও মানসিক সমর্থনের জায়গা হয়ে ওঠেন। তাই দিনটিকে ঘিরে দামি উপহার বা বড় আয়োজনের চেয়ে পারস্পরিক যত্ন, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশকেই বেশি গুরুত্ব দেন অনেকে।

‘ন্যাশনাল বয়ফ্রেন্ড ডে’র নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠাতা বা শুরুর ঘটনা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। বিভিন্ন অনলাইন সূত্রে ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিবসটি পালনের প্রবণতা শুরু হওয়ার কথা বলা হলেও এর কোনো একক ও যাচাই করা উৎস পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে বদলান ৫ দৈনন্দিন অভ্যাস

তবে ২০১০-এর দশকে ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিবসটি ঘিরে পোস্ট ও হ্যাশট্যাগের ব্যবহার বাড়তে থাকে। ছবি, ভিডিও, শুভেচ্ছাবার্তা ও বিভিন্ন ধরনের অনলাইন কনটেন্টের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এটি পরিচিতি পায়। ৩ অক্টোবর তারিখটিকে বয়ফ্রেন্ড ডে হিসেবে বেছে নেওয়ার নির্ভরযোগ্য কারণও নিশ্চিত নয়। অনলাইনে এ বিষয়ে নানা ধরনের দাবি থাকলেও সেগুলোর কোনোটি প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে ধরা যায় না।

তবে ২০০৪ সালের জনপ্রিয় সিনেমা ‘মিন গার্লস’-এর একটি দৃশ্যে ৩ অক্টোবর তারিখটির উল্লেখ রয়েছে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারিখটি নিয়ে আলাদা একটি ট্রেন্ড তৈরি হয়। যদিও এই সিনেমার দৃশ্য থেকেই বয়ফ্রেন্ড ডে শুরু হয়েছিল—এমন প্রমাণ নেই।

দিবসটি পালনের নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। নিজের মতো করে প্রিয় মানুষটির প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই এর মূল উদ্দেশ্য। সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানো, তার পছন্দের খাবার তৈরি করা, ছোট্ট উপহার দেওয়া বা একসঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হতে পারে উদযাপনের অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজনের ছবি দিয়ে ভালোবাসার বার্তা দেওয়াও অনেকের কাছে দিনটি উদযাপনের একটি উপায়।

তবে শুধু উপহার বা অনলাইন পোস্টেই উদযাপন সীমাবদ্ধ রাখতে হবে এমন নয়। ব্যস্ততার মধ্যেও কিছুটা সময় নিয়ে কথা বলা, পুরোনো স্মৃতি মনে করা কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে একসঙ্গে পরিকল্পনা করাও হয়ে উঠতে পারে বিশেষ আয়োজন।

ন্যাশনাল বয়ফ্রেন্ড ডে কোনো সরকারি ছুটি বা আনুষ্ঠানিক জাতীয় দিবস নয়। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর একটি অনানুষ্ঠানিক দিবস হওয়ায় এ উপলক্ষে বড় আয়োজন বা দামি উপহারের প্রয়োজন নেই। একটি আন্তরিক বার্তা, প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো কিংবা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ—ছোট এসব উদ্যোগই দিনটিকে বিশেষ করে তুলতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ট্রেন্ড হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই দিবসটি এখন প্রতি বছর ৩ অক্টোবর ঘিরে নানা পোস্ট ও শুভেচ্ছার উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। তবে দিনটির মূল বার্তা হতে পারে—বিশেষ কোনো দিনের অপেক্ষা না করে সম্পর্কের মানুষের প্রতি নিয়মিত যত্ন, সম্মান ও আন্তরিকতা প্রকাশ করা।