শাহজালাল বিমানবন্দরে হারানো ব্যাগ উদ্ধার, আনসারের সততায় ফিরল পাসপোর্ট ও ডলার

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১:৩২ অপরাহ্ন, ২৪ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২:৫৮ অপরাহ্ন, ২৪ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বরত বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সততা, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের কারণে বিদেশগামী এক যাত্রীর হারিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ মালামালসমৃদ্ধ হাতব্যাগ উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, ২৩ জুন ২০২৬ (মঙ্গলবার) রাত আনুমানিক ১২টা ৫৫ মিনিটে বিমানবন্দরের হেভি লাগেজ এক্সিট গেইট এলাকায় এক বিদেশগামী যাত্রী অসাবধানতাবশত তার ব্যবহৃত হাতব্যাগ ফেলে রেখে চলে যান। ব্যাগটির ভেতরে পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, বৈদেশিক মুদ্রা (ডলার) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল।

আরও পড়ুন: পবিত্র আশুরা ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে: ডিএমপি কমিশনার

এ সময় ওই এলাকায় দায়িত্বরত আনসার সদস্য মো. রইস উদ্দিন ব্যাগটি দেখতে পেয়ে তা উদ্ধার করেন। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাগটি নিজের হেফাজতে নিয়ে বিষয়টি শিফট ইনচার্জ পিসি মো. জামিরুল ইসলামকে অবহিত করেন।

এরপর হারানো ব্যাগের মালিককে খুঁজে বের করতে বিমানবন্দরের ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে সিস্টেম (FIDS)-এর মাধ্যমে ঘোষণা প্রচার করা হয়। ঘোষণার কিছুক্ষণ পর রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে সংশ্লিষ্ট যাত্রী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং হারিয়ে যাওয়া ব্যাগের বিষয়ে জানান।

আরও পড়ুন: রাজনৈতিক দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান

যাত্রীর পরিচয় নিশ্চিত করতে তার পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই শেষে ব্যাগে থাকা পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, বৈদেশিক মুদ্রা এবং অন্যান্য মালামাল অক্ষত অবস্থায় প্রকৃত মালিক আব্দুল হাকিম সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

নিজের মূল্যবান মালামাল ফিরে পেয়ে আব্দুল হাকিম সরকার গভীর স্বস্তি প্রকাশ করেন। তিনি আনসার সদস্যদের সততা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক আচরণের প্রশংসা করে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের দিকনির্দেশনায় বাহিনীর সদস্যরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিমানবন্দর ও বিভিন্ন জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ঘটনা বাহিনীর সদস্যদের জনসেবামূলক মনোভাব, সততা ও দায়িত্ববোধের আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ।