নরসিংদীসহ সারাদেশে ধর্ষণ ও সহিংসতার প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ

Sanchoy Biswas
আরাফাত চৌধুরী, জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:৪৮ অপরাহ্ন, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:০২ অপরাহ্ন, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নরসিংদীসহ সারাদেশে সংগঠিত ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনাসমূহের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুমা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। এ সময় বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শাঁখারীবাজার, রায়সাহেব বাজার, ন্যাশনাল হাসপাতাল হয়ে বাহাদুর পার্ক ঘুরে বিশ্বজিৎ চত্বরে এসে সমাবেত হয়।

আরও পড়ুন: চবিতে ফ্যাসিস্ট আমলের কর্মকর্তার বিতর্কিত পদোন্নতি, প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

বিক্ষোভ মিছিলে শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মারুফ বলেন, নরসিংদীতে যে ঘটনা ঘটেছে তা নতুন নয়। জুলাই পরবর্তী সময়েও সহিংসতা বন্ধ হয়নি। সারাদেশে মানুষের ন্যূনতম জীবনের নিরাপত্তা নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়েও সারাদেশে নৈরাজ্য কায়েম হচ্ছে। পুলিশ-প্রশাসন ব্যর্থ। উল্টো তারা মোরাল পুলিশিং, সাধারণ জনতার উপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। কিন্তু যখন ধর্ষণ হয়, মানুষ নিপীড়নের শিকার হয়, তখন পুলিশ প্রশাসন নিশ্চুপ। গত দেড় বছরে যে গুম, খুন, হত্যা হয়েছে তার বিচার করতে হবে। ন্যূনতম বাঁচার অধিকার তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সদস্য ও ইনকিলাব মঞ্চ নেত্রী শান্তা আক্তার বলেন, নরসিংদীর নৃশংস ধর্ষণের ঘটনা আপনারা জানেন। প্রথমবার ধর্ষণ হওয়ার পর ধর্ষকদের চাপে মেয়েকে যখন বাবা খালার বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলো, তখন ধর্ষক নূরা বাবার সামনে থেকে ছিনিয়ে নিয়ে এসে আবার ধর্ষণ করে হত্যা করে। এর আগে যদি ধর্ষণের বিচার করা হতো, তাহলে এই অবস্থা তৈরি হত না। ধর্ষকের কোনো দল-মত থাকে না। অনতিবিলম্বে এই ধর্ষণের বিচার করতে হবে।

আরও পড়ুন: বাংলায় চিকিৎসা জ্ঞান ছড়িয়ে দিচ্ছে চিকিৎসা ফাউন্ডেশন

এ সময় জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আমরা জুলুমতন্ত্রের পরিবর্তে আরেক জুলুমতন্ত্রই বারবার গ্রহণ করি। মিডফোর্ডে চাঁদার জন্য পাথর দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, বিচার হয়নি; ময়মনসিংহে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, বিচার হয়নি; নরসিংদীতে আমার বোনকে ধর্ষণ করে সরিষা ক্ষেতে ফেলে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার হয়নি। মানুষের সম্পদ লুন্ঠন করা হচ্ছে, গুম-খুনের শিকার হচ্ছে। আমরা আইয়ামে জাহিলিয়াতের দিকে দাঁড়াচ্ছি।

রিয়াজুল আরও বলেন, অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত না করে আপনি ‘বহিষ্কার-বহিষ্কার’ খেলায় মেতে আছেন। অপরাধ করলে আপনি বহিষ্কার করছেন, কিন্তু বহিষ্কার কখনো সংবিধিবদ্ধ বা প্যানাল কোডের শাস্তি হতে পারে না। একটি দেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য এটি একটি চরম লজ্জার এবং ন্যাক্কারজনক অধ্যায়ের সূচনা। আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি; দুদিন পরে আমার লাশ বুড়িগঙ্গায় পাওয়া যেতে পারে। আমি জানি না, আমার লাশ বুড়িগঙ্গায় পাওয়া গেলে সে খুনের বিচার এই দেশে হবে কিনা। আমরা অনতিবিলম্বে নরসিংদীর এই নৃশংস ঘটনার শাস্তির দাবি করছি।

জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, পাঁচ আগস্ট পরবর্তী ন্যায় ও ইনাসফের রাষ্ট্র চেয়েছিলাম, ধর্ষণ ও অত্যাচার মুক্ত বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। বিভিন্ন সময়ে নিপীড়ন ঘটেছে, ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু এই অপরাধগুলোর শাস্তি দিলে ধর্ষণের দিকে কেউ যাবে না।

আরিফ আরও বলেন, পুলিশ প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। তাদের পোশাকের পরিবর্তন হয়েছে, চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি। এমন একটা সরকার পেয়েছি, বিচার পাওয়ার জন্য সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকা লাগে। আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ কোথায়? প্রত্যেকটা দপ্তরকে স্বাধীনভাবে কাজ করার ব্যবস্থা করতে হবে।

উল্লেখ্য, গতকাল নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড়া ও দড়িকান্দীর মাঝামাঝি একটি সরিষা ক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।