জনস্বার্থে প্রাণী অধিকার রক্ষায় লিগ্যাল নোটিশ দিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহরিয়ার

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:১০ অপরাহ্ন, ১২ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৭:০৪ অপরাহ্ন, ১২ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জনস্বার্থে প্রাণী অধিকার রক্ষায় আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রবিবার (১২ এপ্রিল ২০২৬) ডাকযোগে ও ইমেইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের প্রধান নিয়ন্ত্রক এর ঠিকানায় এ নোটিশ দিয়েছেন অ্যাডভোকেট হাসান এন্ড এসোসিয়েটস এর স্বত্ত্বাধিকারী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার।

নোটিশে আগামী ৩ দিনের মধ্যে ০৩ (তিন) দিনের মধ্যে বাগেরহাটের কুকুর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করার পাশাপাশি আগামী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে লিগ্যাল নোটিশের ৯ নং প্যারায় উল্লেখিত ২১ টি বিষয় বাস্তবায়ন করার সকল প্রকার পদক্ষেপ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নেয়ার কথাও বলা হয়েছে। অন্যথায় জনস্বার্থে প্রাণী অধিকার রক্ষায় উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন

নোটিশে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রাণীর উপর নৃশংসতা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বিড়াল, কুকুর, গরু, ছাগল কিংবা ঘোড়ার মতো মানুষের সহচর প্রাণীগুলো প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আবার মানুষের নির্যাতন হত্যার শিকার থেকে রক্ষা পাচ্ছে না বন্যপ্রাণীও। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই পোষা প্রাণীর উপর নিষ্ঠুর নির্যাতনের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। আইন থাকলেও তা কার্যকর প্রয়োগের অভাবে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর নির্যাতন যেন নিঃশব্দে ঘটেই চলেছে। সমাজের অধিকাংশ মানুষ প্রাণীর প্রতি নির্যাতনকে ‘তুচ্ছ’ বিষয় হিসেবে মনে করেন। আর এতেই সমাজে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা বাড়ছে। 

আমাদের সমাজে প্রাণীকে এখনও ‘বস্তু’ হিসেবে দেখা হয়, জীব হিসেবে নয়। এমন সামাজিক মানসিকতা প্রাণী নির্যাতনকে স্বাভাবিক করে তুলছে। যেসব শিশু ছোটবেলা থেকে প্রাণীর প্রতি সহানুভূতি শেখে না, বড় হয়ে তারাই এই নিষ্ঠুরতার ধারক হয়ে ওঠে। এই মানসিকতা না বদলালে আইনের কার্যকারিতা সীমিতই থেকে যাবে। প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ কেবল নৈতিক নয়, মনোবৈজ্ঞানিক সমস্যাও তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রাণীকে নির্যাতন করে, পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে সহিংসতা ও অপরাধ প্রবণতা বাড়ে। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন- যে ব্যক্তি কোন প্রাণীকে (পাখি বা অন্য জীবন্ত সত্তা) লক্ষ্য বানায় (ঃধৎমবঃ ঢ়ৎধপঃরপব বা খেলার বস্তু হিসেবে ব্যবহার করে), তার ওপর লানত করা হয়েছে (সহীহ মুসলিম হাদীস নম্বর: ১৯৫৮, সহীহ বুখারী হাদীস নম্বর: ৫৫১৫, ৫৫১৬)। সুতরাং ধর্মীয়, সামাজিক এবং পারিবারিক মূল্যবোধ অনুযায়ী কোন প্রাণীর সঙ্গে নির্দয় আচরণ করা যাবে না। পশ্চিমা বিশ্বে যারা বিড়াল, কুকুর পালে তাদের ভদ্রলোক হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশে সেই দৃষ্টিভঙ্গির চরম ঘাটতি রয়েছে। প্রাণীর সুরক্ষা মানে শুধু মানবিকতা নয়, এটি পরিবেশ রক্ষারও অংশ। কুকুর-বিড়ালের মতো প্রাণী ময়লা পরিষ্কারে প্রাকৃতিক ভূমিকা রাখে। অনেক সময় মানুষের সঙ্গে মানুষের দ্বন্ধের কারণে অবলা প্রাণী নিষ্ঠুরতার শিকার হচ্ছে।

আরও পড়ুন: আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, আপিলের ঘোষণা

আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট ভাইরাল করতেও প্রাণীর ওপর নির্যাতন করে সেই ভিডিও ছাড়া হচ্ছে। কিন্তু যারা নির্যাতন করছে তারা সবসময় জবাবদিহিতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে নিষ্ঠুর আচরণ কমছে না। আইন থাকলেও আইনের যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। রাষ্ট্র এই ব্যাপারে এগিয়ে আসছে না। একটু খাবার খেতে অনেক সময় রাস্তার পাশের চায়ের দোকানের সামনে কুকুর অপেক্ষা করে। কিন্তু তাদের গরম পানি দিয়ে ঝলসে দেওয়ারও ঘটনা ঘটেছে। যারা প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করছে তারাই একসময় মানুষের সাথেও একই আচরণ করবে। অনেক সিরিয়াল কিলারের হিস্টোরিতে এই ধরনের তথ্য রয়েছে। 

ইতিপূর্বে বগুড়াতে ঘরে ঢুকে মাছ খাওয়ায় বঁটি দিয়ে গলা কেটে একটি বিড়াল হত্যার ঘটনায় অপরাধী ধরা পড়লেও রাজধানীর ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদের লেকের পাড়ে চোখ উপড়ে ফেলা ৪টি বিড়ালের লাশ, ময়মনসিংহের ত্রিশালে বৈলর নামাপাড়া এলাকায় গাভীর জিহ্বা কেটে দেয়া, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের কোর্চাডাঙ্গী গ্রামে একটি ছাগলের মাথা কেটে হত্যার ঘটনা কে, কারা, কেন করলো তা আজও জানা যায়নি। অনেক বাংলাদেশি পরিবারে পথের বিড়াল-কুকুরকে বাড়তি উপদ্রব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এমনকি অনেক বাবা-মা আছেন যারা রাস্তার কুকুর বিড়ালদের লাঠি বা পাথর দিয়ে আঘাত করে তাড়িয়ে দিতে সন্তানদের উৎসাহ দেন। যার ফলে এই শিশুরা পশুদের বিষয়ে যত্নশীল না হয়েই বেড়ে ওঠে এবং নিষ্ঠুরতা তাদের চরিত্রের মধ্যে গেঁথে যাচ্ছে। ২০২১ সালে করোনা লকডাউন শুরুর পর রাজধানী ঢাকার কাঁটাবনে বৃহত্তম পোষা প্রাণীর মার্কেটে প্রায় চারশ পাখি এবং কয়েক ডজন কুকুর, বিড়াল, খরগোশ, ইঁদুর এবং গিনিপিগ মারা যায়। এছাড়া প্রচন্ড গরমে, খাবারের অভাবে দয়ামায়াহীন অবস্থায় অস্বাস্থ্যকর ও ভয়াবহ পরিবেশে কাঁটাবনে থাকা পশু-পাখিগুলো নিয়মিত মারা গেলেও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত এই ব্যাপারে কোন আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করা হয় নাই। যার দায়ভার ১, ২, ৩, ৪ এবং ৬ নং নোটিশ গ্রহিতার উপরই বর্তায় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে ৮ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে বাগেরহাটে খান জাহান আলীর (রহ) মাজারে সম্প্রতি একটি জীবন্ত কুকুরকে কুমিরের মুখে ছেড়ে দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ভিডিওতে কিন্তু একবারও মনে হয়নি কুকুরটি পাগল। বরং মনে হয়েছে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে পা ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কুকুরটি যদি পাগলও হয়ে থাকে, তাহলেও তো তাকে কুমিরের মুখে ফেলে দেওয়া কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বাগেরহাটের এই ঘটনা আজকে ফেসবুকে আসাতে সবাই জানতে পারছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো এমন ঘটনা ওখানে বহুবছর ধরেই ঘটে চলেছে। ওই মাজারে শত শত বছর ধরে ধলা পাহাড় ও কালা পাহাড় নামে কুমির পোষা হয়। প্রাকৃতিকভাবে একটি কুমির মারা গেলে আবার অন্য কুমির নিয়ে আসা হয়। সেই কুমিরের খাদ্য হিসেবে জীবন্ত মুরগি ও ছাগল ছুঁড়ে দেওয়ার রীতিও বহু বছর ধরেই চলছে। কুমিরকে বাজার থেকে কিনে আনা মাংস খাওয়ানো এক কথা, আর জীবন্ত প্রাণী তার মুখে ছুঁড়ে দেওয়া আরেক কথা। প্রবল ক্ষমতাধর মাজার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এসব নিয়ে আজ পর্যন্ত কথা বলার সাহস কেউ দেখাতে পারে নাই। অথচ এই বিষয়ে ১, ২, ৩, ৪ এবং ৬ নং নোটিশ গ্রহিতারা আজ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেন নাই। 

বাংলাদেশে প্রচলিত প্রাণিকল্যাণ আইন ২০১৯ এর ধারা ৬ প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার অপরাধ এবং ধারা ৭ অনুসারে যন্ত্রণাদায়কভাবে হত্যা বা অঙ্গহানি নিষিদ্ধ। কেউ যদি এই ধরনের কর্মকান্ড করে তাহলে প্রাণিকল্যাণ আইন ২০১৯ এর ধারা ১৬ অনুসারে অনধিক ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ড এর বিধান আছে। এছাড়া দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ধারা ৪২৯ অনুসারে কেউ গৃহপালিত প্রাণী হত্যা বা পঙ্গু করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড বা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ড এর বিধান আছে। বাংলাদেশের সংবিধান (অনুচ্ছেদ ১৮ ও ৩২) অনুসারে জীবনের সুরক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্রের পক্ষে ১, ২, ৩, ৪ এবং ৬ নং নোটিশ গ্রহিতাদের এই দায়িত্ব এড়িয়ে যাবার তাই কোন সুযোগ নাই। এছাড়া জাতিসংঘের প্রাণী কল্যাণ নীতিমালা (Universal Declaration on Animal Welfare - UDAW) অনুসারেও প্রাণীদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা বাংলাদেশের কর্তব্য।

লিগ্যাল নোটিশে আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার আরও বলেছেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান একজন প্রানীপ্রেমী মানুষ। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রাণীদের কল্যাণে ও জীবন রক্ষার্থে সময় উপযোগি পদক্ষেপ গ্রহন করা একান্তভাবে জরুরী। সেজন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তথা ১-৭ নং নোটিশ গ্রহিতাবৃন্দদের নিম্মলিখিত ২১ টি পদক্ষেপসমূহ গ্রহন করার জন্য অত্র লিগ্যাল নোটিশের মাধ্যমে অনুরোধ করছি। যথা- প্রাণীনির্যাতন বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রাণিকল্যাণ আইন ২০১৯ সংশোধন করে শাস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি করা এবং অপরাধীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, প্রাণী খাদ্য আমদানি এবং বিদেশে পোষা প্রাণী নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে সকল প্রকার ভ্যাট, ট্যাক্স ও কাস্টমস ফি প্রত্যাহার করা। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনে প্রাণীদের নির্দিষ্ট কবরস্থানের ব্যবস্থা করা। সরকারি পশু হাসপাতালগুলোতে সপ্তাহে ৭ দিন বিনামূল্যে জলাতঙ্ক ও ফ্লু এর টিকা প্রদান এবং প্রাণীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসা সেবা বিভাগ চালু করা। জাতীয় Animal Welfare Authority নামক স্বতন্ত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করা যাতে মনিটরিং, লাইসেন্স, শাস্তি সব এক জায়গা থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় এবং প্রাণী নির্যাতন বন্ধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা।  

নোটিশে বলা হয়েছে, প্রাণী বিক্রয় দোকান, বাজার ও সেল্টার হোমের লাইসেন্স প্রদান ও মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পেট শপ, ব্রিডার, সেল্টার হোম সবকিছুর জন্য লাইসেন্স এবং পেট শপ, ব্রিডার, সেল্টার হোমে লাইভ মনিটরিং সিস্টেমসহ CCTV থাকা বাধ্যতামূলক করতে হবে। বিশেষ Animal Protection Unit বা প্রাণী পুলিশ সেল এর মাধ্যমে প্রাণী বিষয়ক অভিযোগ দ্রুত গ্রহন করে অভিযান পরিচালনা এবং ২৪/৭ হটলাইন ও রেসকিউ টিম সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে প্রদানের ব্যবস্থা করা নিশ্চিত করতে হবে।প্রাণী নির্যাতনকে Cogni“able Offence ঘোষণা করা যাতে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই মামলা নিতে পারে। প্রতি উপজেলায় সরকারি প্রাণী হাসপাতাল ও মোবাইল ভেট ইউনিট স্থাপন করতে হবে। 

লিগ্যাল নোটিশে আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার আরও বলেছেন, পোষা প্রাণীর ডিজিটাল আইডি তথা মাইক্রোচিপ/রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম চালু করা যাতে হারানো/চুরি/নির্যাতন ট্র্যাক করা সহজ হবে। স্কুল, কলেজের পাঠ্যবইয়ে প্রাণী কল্যাণ শিক্ষা অর্ন্তভুক্ত করতে হবে। ধর্মীয় ও সামাজিক সচেতনতা কর্মসূচির অংশ হিসাবে প্রাণী নির্যাতন বন্ধে ইমাম, শিক্ষক, মিডিয়াকে যুক্ত করতে হবে। পাবলিক স্থান (বাজার, রেস্টুরেন্ট, সুপার শপ, হোটেল) এ প্রাণী-বান্ধব নীতি প্রণয়ন করে পোষা প্রাণী নিয়ে প্রবেশ, চলাচল এবং হোটেলে প্রাণী নিয়ে থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে যথাযথ আইন প্রণয়ন করতে হবে। 

পোষা প্রাণী লালনকারীদের জন্য নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে বিনামূল্যে সরকারি নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা ও বিশেষ পরিচয়পত্র প্রদানের পাশাপাশি সরকারিভাবে পোষা প্রাণীদের নির্দিষ্ট কিছুদিন রাখার জন্য বিনামূল্যে এনিমেল হোটেল চালু করা, বিদেশে পোষা প্রাণী নিয়ে গেলে One Stop Service Center এর মাধ্যমে বিনামূল্যে সকল সরকারি অনুমোদন প্রদান, World Organization for Animal Health স্ট্যান্ডার্ড মান অনুসরণ করে অবৈধ বন্যপ্রাণী, কচ্ছপ, বানর, পাখি ইত্যাদির অবৈধ বিক্রি বন্ধ ও মাংস বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা এবং সকল পোষা প্রানী, গৃহপালিত প্রাণী ওপথপ্রাণীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাধ্যতামূলক টিকাদান ও Spay, Neuter করার ব্যবস্থা গ্রহন করার কথাও বলা হয়েছে লিগ্যাল নোটিশে।