গত ২৪ ঘন্টায় হাম উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু

ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:১৭ অপরাহ্ন, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৫:৩২ অপরাহ্ন, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দিন যতই যাচ্ছে,ততই দীর্ঘ থেকে আর দীর্ঘ হচ্ছে হামের উপসর্গে লাশের সারি। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৬৩ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ৩০৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গে ২ জন করে মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গে একজন করে আরও ২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। সবমিলিয়ে দেশজুড়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট ১ হাজার ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, এক দিনে আক্রান্ত ১,২৩৬

এদিকে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৮১ হাজার ৩৫ জনের সন্দেহজনক হাম (হামের উপসর্গ) শনাক্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ২০ হাজার ৬৪৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের হাসপাতালগুলোয় মোট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮০৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশে হামের টিকা থেকে বাদ পড়া এবং নতুন করে টিকাদানের বয়সে আসা প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এসব শিশুকে হামের টিকা দেয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। গত রোববার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে একযোগে এ বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। শুরুতে কার্যক্রমটি এক মাস চালানোর কথা বলা হলেও পরে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় ধরে কর্মসূচি চালানোর কথা জানান তিনি। এ সময় শুধু নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসার অপেক্ষায় না থেকে গ্রামের ভেতরে গিয়ে শিশুদের খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রয়োজনীয় টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। হাতে থাকা টিকা ও নতুন করে পাওয়া টিকা মিলিয়ে মোট ৫৮ লাখ ডোজের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, টিকার অপচয় হিসাব করার পরও প্রায় ৫২ লাখ ডোজ থাকবে। এর বিপরীতে বিশেষ কার্যক্রমে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন হবে প্রায় ৩৪ লাখ ডোজ। ফলে ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পরও হাতে টিকা থাকবে এবং সেই টিকা ব্যবহার করে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করার কাজ অব্যাহত রাখা হবে।

আরও পড়ুন: হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু