ট্রাম্প কি মাদুরোর মতো মোদিকেও অপহরণ করবেন?
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে ভারতে একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে কি না—এমন মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ভারতের বিরোধীদল কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা পৃথ্বীরাজ চবন। তার মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করেছে—এমন দাবির প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পৃথ্বীরাজ চবন লেখেন, “ভেনেজুয়েলায় যা ঘটেছে, তেমন কিছু কি ভারতে ঘটবে? ট্রাম্প কি আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে অপহরণ করবেন?”
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে খালি হাতেই মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে হবে!
এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
চবনের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন জম্মু-কাশ্মির পুলিশের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা এসপি বৈদ। তিনি বলেন, “এটি সমগ্র দেশের জন্যই অপমানজনক মন্তব্য। ভারতের মতো একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের ক্ষেত্রে এমন কথা হাস্যকর।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই চবনের বক্তব্যকে ‘ব্রেন ডেড’, ‘অশিক্ষিত’ ও ‘মূর্খ’ বলেও আখ্যায়িত করেছেন। সমালোচকদের মতে, এমন মন্তব্য ভারতের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে হীন করে।
আরও পড়ুন: ইরানের উপসাগরীয় বন্দর নিয়ে উত্তেজনা: মার্কিন অবরোধ ও পাল্টা হুঁশিয়ারি
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পৃথ্বীরাজ চবন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক আরোপ নিয়েও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “৫০ শতাংশ শুল্ক থাকলে কার্যত বাণিজ্য সম্ভব নয়। এটি সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে বাণিজ্য বন্ধ করারই একটি কৌশল। এর পুরো বোঝা ভারতকেই বহন করতে হবে।” চবনের মতে, এর ফলে ভারত যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি থেকে আগের মতো লাভবান হতে পারবে না এবং বিকল্প বাজার খুঁজে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।
পৃথ্বীরাজ চবন আরও প্রশ্ন তোলেন, “ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যা করেছেন, ভারতের সঙ্গেও যদি তেমন কিছু করেন, তাহলে কী হবে?” এই বক্তব্যকেও সমালোচকেরা দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে দেখেছেন।
এসপি বৈদ মন্তব্য করেন, “ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা ও মাদুরোর সঙ্গে যা করেছেন, তা নরেন্দ্র মোদির ক্ষেত্রেও হওয়া উচিত—এমন ভাবনা পুরো দেশের জন্য অপমানজনক। কথা বলার আগে অন্তত ভাবা উচিত। নাকি এটাই এখন কংগ্রেসের আসল আদর্শ?”





