খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ক্ষমতার বলয়

যুগ্ম সচিব ড. নাছিমা আকতারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:৪৮ অপরাহ্ন, ০১ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪৮ অপরাহ্ন, ০১ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শাখাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে যুগ্ম সচিব ড. নাছিমা আকতারের বিরুদ্ধে। মন্ত্রণালয়ের একাধিক পর্যায়ের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব অভিযোগ তুলে ধরেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ড. নাছিমা আকতার বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় একজন প্রভাবশালী ও মদদপুষ্ট কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সে সময়ের ক্ষমতাধর মন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদার এবং বর্তমানে বহিস্কৃত ও কারাভোগকারী সাবেক খাদ্য সচিব ইসমাইল হোসেনের ঘনিষ্ঠ ও অনুগত কর্মকর্তা হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: বিজয় দিবসে সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম বাংলাদেশের

সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ

খাদ্য বিভাগের সকল গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ কার্যক্রম কার্যত তার নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, এই ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি ডিলার ও মিলারদের অনৈতিক সুবিধা প্রদান করেন এবং এর বিনিময়ে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে গ্রহণ করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এছাড়াও, অভিযোগ রয়েছে- তিনি সাবেক এক খাদ্য সচিবের অবৈধ অর্থের হেফাজতকারী হিসেবেও কাজ করেছেন।

আরও পড়ুন: ক্যাম্পের সব সেনাসদস্যকে প্রত্যাহার: আইএসপিআর

একই ডেস্কে দীর্ঘদিন, প্রশাসনিক অচলাবস্থা

জানা গেছে, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল থেকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সরবরাহ শাখার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডেস্কে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বহাল রয়েছেন। ফলে নবনিযুক্ত সচিবরাও তার বলয়ের বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ ওঠে। মন্ত্রণালয়ের একাধিক উইং তার মতামতের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না- এমন অভিযোগে প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

অভিযোগ আরও গুরুতর আকার ধারণ করেছে যখন জানা যায়- তার নেতৃত্বে বিগত সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত যেসব ডিলার বর্তমান সরকার কর্তৃক বাতিল হয়েছেন, তাদের পুনর্বহালের জন্য তিনি সক্রিয়ভাবে তৎপর রয়েছেন।

একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন অধিদপ্তরের বদলি বাণিজ্যের সঙ্গেও তিনি সরাসরি জড়িত। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি খাদ্য সচিব এমনকি খাদ্য উপদেষ্টার নাম ব্যবহার করে বদলি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে থাকেন।

ভিন্নমত দমনে শাস্তিমূলক বদলি

মন্ত্রণালয়ের ভেতরে ভয়ের পরিবেশ তৈরির অভিযোগও রয়েছে। তার সঙ্গে সখ্যতা না রাখা বা ভিন্নমত পোষণ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শাস্তিমূলক বদলি বা নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ কারণে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না বলেও জানান তারা।

কর্মকর্তাদের উদ্বেগ

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে এবং তাকে নিয়ন্ত্রণে না আনা হলে কিংবা অন্যত্র বদলি না করা হলে খাদ্য বিভাগের মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা সরকারের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা

এ বিষয়ে ড. নাছিমা আকতারের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।