ব্যাংক খাতের ধস সামলাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ছাপাতে হয়েছে: পরিকল্পনা উপদেষ্টা

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৩২ অপরাহ্ন, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:১৭ পূর্বাহ্ন, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্যাংক খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকারকে হাজার হাজার কোটি টাকার নতুন নোট ছাপাতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পরবর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ঢাকায় ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার

পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ব্যাংক খাত থেকে যেসব মালিক পালিয়ে গেছেন, তাদের অনেকেরই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে কোনো শেয়ার না থাকায় ক্ষতিপূরণ আদায় সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে বকেয়া থাকা প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের জ্বালানি আমদানির অর্থ পরিশোধ করতে সরকারকে বাধ্য হতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক খাত থেকে ব্যাপক অর্থপাচার হয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া বিভিন্ন কারখানায় মাসের পর মাস শ্রমিকদের মজুরি দিতে হয়েছে। এসব কারণে সরকারকে বড় ধরনের অদৃশ্য ক্ষতিপূরণ বহন করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি স্বাক্ষর

বর্তমান বাজেট বাস্তবতা তুলে ধরে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, এখন যে পরিমাণ কর আদায় হচ্ছে, তা মূলত সরকারের পরিচালন ব্যয় মেটাতেই ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নসহ অন্যান্য খাত পরিচালিত হচ্ছে দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করে।

বিদেশি ঋণের ব্যয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব ঋণের একটি স্বল্প অংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হলেও অধিকাংশ অর্থ বিদেশি পরামর্শকদের পেছনে চলে যায়। সে কারণেই এমন প্রকল্পগুলো বাতিল করা হয়েছে। নতুবা বিদেশি ঋণের মাধ্যমে নির্বিচারে প্রকল্প গ্রহণ করলে দেশ ঋণের ফাঁদে পড়ে যাবে।

সুদের হার ও মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার কড়াকড়ি করে বাড়িয়ে রাখার যে ধারণা ছিল, বর্তমানে সে ধরনের কঠোরতার প্রয়োজন নেই। মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামতেই হবে বা নীতি সুদের হার ১০ শতাংশে ধরে রাখতে হবে— এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশিত হারে কমেনি, তবে প্রবণতা নিম্নমুখী। দেশের অর্থনীতি এখন এক নতুন বাস্তবতায় পৌঁছেছে, যেখানে আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে যাওয়া আর সম্ভব নয়।