জেলা ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি পুনর্গঠন করে প্রজ্ঞাপন

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:১৯ অপরাহ্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৫:২৫ অপরাহ্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সারাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতিশীলতা আনতে কমিটিগুলো পুনর্গঠন করেছে সরকার। আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-২ থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নতুন কাঠামো ও কার্যপরিধি ঘোষণা করা হয়।

জেলা আইনশৃঙ্খলার নতুন এই কমিটিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সভাপতি এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সদস্য-সচিব করা হয়েছে। ৩১ সদস্যের এই শক্তিশালী কমিটিতে জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: গভীর রাতে রাজধানীর পাড়া মহল্লায় আইজিপির পরিদর্শন অভিযান

কমিটির সদস্যবৃন্দ: পুলিশ সুপার, উপ-পুলিশ কমিশনার, সিভিল সার্জন, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, জেলা আইনজীবী সমিতি, প্রেসক্লাব ও চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধি। এছাড়া ৫ জন গণ্যমান্য ব্যক্তিকেও (১ জন নারীসহ) কমিটিতে রাখা হয়েছে।

জেলার সংশ্লিষ্ট সকল সংসদ সদস্য এই কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আরও পড়ুন: সেনাবাহিনীর শীর্ষ ৬ পদে রদবদল

উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) সভাপতি করে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য এই কমিটির মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে থাকবেন। এছাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান/প্রশাসক এবং ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয় উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন।

সদস্যবৃন্দ: এসিল্যান্ড, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধি এবং ৫ জন গণ্যমান্য ব্যক্তি (১ জন নারীসহ) এই কমিটির সদস্য।

জেলার প্রজ্ঞাপনে কমিটির ৯টি সুনির্দিষ্ট কার্যপরিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে: 

১. অপরাধ পর্যালোচনা: জেলার সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সংঘটিত অপরাধ বিশ্লেষণ করা।

২. প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা: খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, এসিড নিক্ষেপ, ইভটিজিং, নারী ও শিশু পাচার, কিশোর গ্যাং এবং মাদক ব্যবসা নির্মূলে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ।

৩. জনসম্পৃক্ততা: অপরাধ দমনে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা এবং তাদের পরিকল্পনার অংশ করা।

৪. সমন্বয়: পুলিশ, আনসার ও ভিডিপিসহ সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন।

৫. সুপারিশ: পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার বা বিভাগীয় কমিটির কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ পাঠানো।

উপজেলার প্রজ্ঞাপনে এই কমিটির ১০টি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বা কার্য-পরিধি উল্লেখ করা হয়েছে:

অপরাধ পর্যালোচনা: উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংঘটিত অপরাধসমূহ পর্যালোচনা করা।

বিশেষ অপরাধ দমন: খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, এসিড নিক্ষেপ, ইভটিজিং, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ, মাদক ব্যবসা ও পাচার প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

জনসচেতনতা: অপরাধ দমনে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং জনগণকে বিভিন্ন পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত করা।

সমন্বয় ও সুপারিশ: আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নের লক্ষ্যে জেলা কমিটির নিকট প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রেরণ এবং সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক কার্যক্রম গ্রহণ করা।

মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব কে. এম. ইয়াসির আরাফাত স্বাক্ষরিত এই আদেশে বলা হয়েছে, জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটিকে মাসে অন্তত একবার সভায় মিলিত হতে হবে। প্রয়োজনে যেকোনো সময় বিশেষ সভার আয়োজন করা যাবে। এছাড়া পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপাত্তসহ প্রতিটি সভায় আবশ্যিকভাবে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রয়োজনবোধে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী যেকোনো সরকারি কর্মকর্তা বা দপ্তর প্রধানকে কমিটিতে ‘কো-অপ্ট’ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।