কৃষকদের স্বচ্ছল করতেই ‘কৃষক কার্ড’ চালু: প্রধানমন্ত্রী
দেশের কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বচ্ছল করতে সরকার ‘কৃষক কার্ড’ চালু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা। তিনি জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে পর্যায়ক্রমে ১০টি সুবিধা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে, যা তাদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন: দায়িত্বে অবহেলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকা সিটির দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা বরখাস্ত
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ল্যাপটপে বাটন চাপার সঙ্গে সঙ্গে দেশের ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৭ জন কৃষকের মোবাইল ব্যাংক হিসাবে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে যায়। এর মধ্যে টাঙ্গাইল জেলার ১ হাজার ৪৫৩ জন কৃষক এই সুবিধা পান।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। অনুষ্ঠানে তিনি ১৫ জন কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন।
আরও পড়ুন: নিজেই ড্রাইভ করে ঢাকার বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
কৃষির গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারই কোনো না কোনোভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। কৃষকরা ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকবে। তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।
কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোল্ড স্টোরেজ ও প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তুলতে হবে, যাতে কৃষকরা সঠিক দাম পান এবং দেশীয় পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা যায়।
তিনি আরও জানান, কৃষিভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করছে। এতে একদিকে কৃষকরা লাভবান হবেন, অন্যদিকে দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি জানান, নারী প্রধান পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে তা সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
দেশ গঠনে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, “এই সরকার জনগণের সরকার। কৃষক, শ্রমিক, নারী, শিক্ষার্থী—সবার কল্যাণেই আমরা কাজ করছি।”
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে কৃষির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সেই কারণেই এদিন কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন, এফএও প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি এবং কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ।





