৬৪ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:১৬ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৮:২৪ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সরকারের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য দেশের ৬৪ জেলার দায়িত্ব ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিজ নিজ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি করবেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্ব বণ্টনের তথ্য জানানো হয়।

আরও পড়ুন: এভিয়েশন নিরাপত্তায় দক্ষতা বাড়াতে শাহজালালে ডিএফটি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন বরাদ্দ থাকলেও দুর্নীতির মাধ্যমে তা লুটপাট করা হয়েছে। লুট করা অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অন্য অংশ দেশের অভ্যন্তরে মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে জেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৫৫ (২) অনুচ্ছেদ এবং কার্যপ্রণালি বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধানের আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: সেপ্টেম্বরে তফসিল, নভেম্বরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: সিইসি

দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদ পেয়েছেন রাজশাহী ও নাটোরের দায়িত্ব। আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে দেওয়া হয়েছে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়। আবদুল আউয়াল মিন্টু লক্ষ্মীপুর এবং নিতাই রায় চৌধুরী চুয়াডাঙ্গার দায়িত্ব পেয়েছেন। খন্দকার আবদুল মুক্তাদির পেয়েছেন হবিগঞ্জের দায়িত্ব।

আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন মৌলভীবাজারের দায়িত্ব। মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম জেলার দায়িত্ব। এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত দায়িত্ব পেয়েছেন শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার। আসাদুল হাবিব দুলু পেয়েছেন ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরের দায়িত্ব। মো. আসাদুজ্জামানকে দেওয়া হয়েছে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের দায়িত্ব।

জাকারিয়া তাহের ফেনী ও নোয়াখালী; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ; সাচিং প্রু কক্সবাজার এবং মো. শরীফুল আলম টাঙ্গাইল ও নরসিংদীর দায়িত্ব পেয়েছেন।

শামা ওবায়েদ ইসলাম পেয়েছেন মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের দায়িত্ব। অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে দেওয়া হয়েছে মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ। আব্দুল বারী পেয়েছেন বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং সুলতান সালাউদ্দিন ঢাকা জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।

পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির দায়িত্ব পেয়েছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। হাবিবুর রশিদকে দেওয়া হয়েছে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের দায়িত্ব। মো. রাজীব আহসান পেয়েছেন বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুরের দায়িত্ব। মীর শাহে আলম পেয়েছেন রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের দায়িত্ব।

ফারজানা শারমিন পেয়েছেন সিরাজগঞ্জ ও পাবনা। শেখ ফরিদুল ইসলামকে দেওয়া হয়েছে যশোর, মাগুরা ও নড়াইলের দায়িত্ব। ইমরান খান চৌধুরী পেয়েছেন জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ এবং আহমেদ সোহেল মঞ্জুর পেয়েছেন বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠির দায়িত্ব।

মোহাম্মদ শামীম কায়সার জয়পুরহাট ও নওগাঁ; মো. জি কে গউছ সিলেট ও সুনামগঞ্জ; মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুরের দায়িত্ব পেয়েছেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকি করবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং পুরোনো অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বও থাকবে তাদের।

এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি করবেন তারা। প্রয়োজন অনুযায়ী জেলার বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শ দেওয়ার সুযোগও থাকবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের।