শাহজালাল বিমানবন্দরে আনসার সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার হারানো লাগেজ, মালিকের কাছে হস্তান্তর
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের দ্রুত ও দায়িত্বশীল তৎপরতায় এক প্রবাসী যাত্রীর হারিয়ে যাওয়া লাগেজ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তীতে যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে লাগেজটি প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বুধবার (২৪ জুন) সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দরের ক্যানোপি-০২ এলাকায় দায়িত্ব পালনরত এপিসি মো. নিজাম উদ্দীনের কাছে বিদেশফেরত প্রবাসী যাত্রী মো. শাহীন মৃধা তার হারিয়ে যাওয়া লাগেজের বিষয়ে অভিযোগ জানান। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই এপিসি নিজাম উদ্দীন তাৎক্ষণিকভাবে লাগেজ উদ্ধারের উদ্যোগ নেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত থানা প্রশিক্ষক মো. ওয়াসিম মিয়াকে অবহিত করেন।
আরও পড়ুন: বন্ধ তিন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালু করতে চুক্তি সই, বিনিয়োগ হবে ৬১৯ কোটি টাকা
পরে থানা প্রশিক্ষক মো. ওয়াসিম মিয়ার নির্দেশনায় আনসার সদস্যরা হারানো লাগেজ উদ্ধারে মাইকিং, অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক খোঁজখবর শুরু করেন।
অনুসন্ধানের একপর্যায়ে জানা যায়, দুবাইপ্রবাসী মো. ঈমান আলী ভুলবশত নিজের লাগেজ বিমানবন্দরে রেখে ওমানপ্রবাসী মো. শাহীন মৃধার লাগেজ সঙ্গে নিয়ে চলে গেছেন। ফলে নিজের লাগেজ খুঁজে না পেয়ে আনসার সদস্যদের সহায়তা চান শাহীন মৃধা।
আরও পড়ুন: ৩৬ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের নানা হিসাব নিকাশ
এ সময় ক্যানোপি এলাকায় পড়ে থাকা মালিকবিহীন একটি লাগেজের ট্যাগ পরীক্ষা করে একটি মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এপিসি মো. নিজাম উদ্দীন। পরে ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে দুবাইপ্রবাসী মো. ঈমান আলীর সঙ্গে কথা হয়। তাকে জানানো হয় যে, তার লাগেজটি বিমানবন্দরে পড়ে রয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি পুনরায় বিমানবন্দরে ফিরে আসেন।
পরবর্তীতে তার সঙ্গে থাকা লাগেজটি যাচাই করে দেখা যায়, সেটি আসলে মো. শাহীন মৃধার হারিয়ে যাওয়া লাগেজ। পরে উভয় যাত্রীকে উপস্থিত রেখে লাগেজ দুটির ট্যাগ নম্বর, বিবরণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হয়।
যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ভুলবশত মো. ঈমান আলী মো. শাহীন মৃধার লাগেজ নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তার নিজের লাগেজটি বিমানবন্দরের ক্যানোপি এলাকায় পড়ে ছিল।
সবশেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উভয় যাত্রীর কাছে তাদের নিজ নিজ লাগেজ হস্তান্তর করা হয়। হারিয়ে যাওয়া লাগেজ ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন প্রবাসী যাত্রী মো. শাহীন মৃধা। একই সঙ্গে দ্রুত ও দায়িত্বশীল সহায়তার জন্য দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, কেপিআইভুক্ত এলাকা এবং জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও জনসেবা নিশ্চিত করতে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ঘটনাটি আনসার সদস্যদের জনবান্ধব সেবা, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দায়িত্বশীল কর্মতৎপরতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।





