শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ক্যাম্পাস
# জবি ক্যাম্পাসে দফায় দফায় সংঘর্ষ,আহত ৫০ জন
# জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি
আরও পড়ুন: সব অংশীজনের মতামতে চূড়ান্ত হবে সংবিধান সংশোধন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
# ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও দফায় দফায় সংঘর্ষ
# ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় ছাত্রদল-শিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষ
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
# সংঘর্ষের জায়গায় পাইপ-লাঠি হাতে নেতাকর্মীদের অবস্থান
# আইনজীবীকেও মারধরের অভিযোগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ইউজিসি চেয়ারম্যানের একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও অডিটোরিয়ামে প্রবেশ নিয়ে এই ধাওয়া-পাল্টাওয়া ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন শিক্ষক ও জকসু নেতারা। তবে ছাত্রদলের কতজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রবেশ করার সময় হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা ও আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারুক জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ গুরুতর আহত গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসাসেবা উন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি প্ল্যাকার্ডে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইউজিসি চেয়ারম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ে আসায় তার সামনে এসব দাবি তুলে ধরতেই জকসুর প্রতিনিধিরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রবেশের সময় তাদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জকসুর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা এবং তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর প্রতিনিধিরা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ নেতারা অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে গেলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বাঁধা দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসান পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে তাকে ধাক্কা দেন ছাত্রদল আহ্বায়ক নিজে। এ সময় ছাত্রদল নেতা হিমেল বলেন, এই দরজা বন্ধ কর। দ্রুত গেট আটকা। পরে গেট আটকে দেওয়া হয়। বর্তমানে অডিটোরিয়ামের সামনেই জকসু নেতা ছেঁড়া প্ল্যাকার্ড নিয়েই বিক্ষোভ করছেন বলে সরেজমিনে দেখা গেছে। জকসুর নেতাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো ইউজিসি চেয়ারম্যানের সামনে তুলে ধরতেই তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সেই কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং সরাসরি হামলা চালানো হয়। জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ ফেসবুক লিখেছেন, প্রক্টর ছাত্রদল হয়ে গেছে নাকি ছাত্রদল প্রক্টরের ভূমিকায়? আমন্ত্রণ জানিয়েও অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা। ধাক্কাধাক্কি করা শুধু ছাত্রদলের দ্বারাই সম্ভব।
জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির-সমর্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের জের ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও। ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে সেখানে আবারও কয়েক দফা উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন শিক্ষক ও জকসু নেতারা। তবে ছাত্রদলের কতজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। ক্যাম্পাসে আহতদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে আবারও কয়েক দফা সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালের বিভিন্ন প্রবেশপথে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এদিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত হাসপাতালের কার্যক্রম পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই চলছিল। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করতে দেখা যায়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে পারেনি। তবে সংঘর্ষের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা আড়াইটার দিকে হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে একদল শিক্ষার্থী জামায়াত-শিবিরবিরোধী স্লোগান দিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা ছাত্রশিবির ও অন্য শিক্ষার্থীরাও পাল্টা অবস্থান নেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ ভুয়া-ভুয়া স্লোগান দিতে থাকে। পরে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে পাশের আদালত এলাকাতেও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় কিছু সময়ের জন্য ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কয়েকটি প্রবেশপথ সীমিত করা হয়। আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে যান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, গত দেড়-দুই বছরে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তিসহ সব সংগঠনের মধ্যে একটি সুন্দর সহাবস্থান ছিল। আজকের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। কেন এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো এবং কারা উসকানি দিয়েছে, তা সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত। তিনি আরও বলেন, আমি হাসপাতালে আসার কিছুক্ষণ পরই বাইরে আবার হামলার ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা ভেতরে আশ্রয় নেয়। আমার যতটুকু মনে হয়েছে, ৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। অনেকের মাথা ফেটে গেছে, একজন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীর মাথায় সেলাই করতেও দেখেছি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি তুলে ধরতে শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের নেতৃত্বে প্রথমে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয় এবং পোস্টার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ক্যাম্পাসজুড়ে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। তার দাবি, হামলায় জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ গুরুতর আহত হয়েছেন। মেডিকেল সেন্টারেও তার ওপর হামলা হয়েছে। কার্যনির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ ফারুকের পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং এজিএস সিরাজুল ইসলামসহ অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়ন, অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ এবং চিকিৎসাসেবা উন্নয়নের দাবিতে কর্মসূচি পালন করছিলেন। কিন্তু তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালানো হয়। তার দাবি, হামলায় ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ জনের অবস্থা গুরুতর।
আইনজীবীকেও মারধরের অভিযোগ: ঘটনায় আহত মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) বলেন, তিনি ভাগ্নির ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে জামাত-শিবির বলে অভিযুক্ত করে কয়েকজন অতর্কিত হামলা চালায়। সংঘর্ষের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলামকে কয়েকজন ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে গিয়ে একটি রিকশায় তুলে দিচ্ছেন। পরে একইভাবে জিএস আব্দুল আলিম আরিফকেও ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়। ঘটনায় ছাত্রদলের কতজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং তাদের বক্তব্য জানতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আহতের চূড়ান্ত সংখ্যা বা ঘটনার তদন্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। তবে ক্যাম্পাস ও হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। সংঘর্ষের পরে ক্যাম্পাসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, একটি রাজনৈতিক সংগঠন গত ছয় মাসে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কোনো উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ছাত্রদল এবং সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট নিরসনে দৃশ্যমান হল নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের পাশাপাশি জকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও সার্টিফিকেট আপলোডসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা সহজ করতে কাজ করছেন। কিন্তু একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এসব কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং প্রশাসনকে ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টা করছে। শামসুল আরেফিনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে আইটি অবকাঠামো উন্নয়ন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু একটি গোষ্ঠী নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে দেশজুড়ে এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তার ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অতীতে ফ্যাসিবাদী সরকারের অনুসারীদের কৌশলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যারা বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে মানুষের দৃষ্টি প্রকৃত সমস্যা ও উন্নয়ন থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করতো।
ছাত্রদলের এই নেতা আরও বলেন, বর্তমানে মানুষ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রত্যাখ্যান করছে এবং জামায়াত-শিবির ইমেজ সংকটে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তারা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভাজন ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে তার অভিযোগ। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তা ব্যক্তিগত দায়ের বিষয়; কিন্তু কোনো সংগঠন অপরাধে জড়ালে তার প্রভাব পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর পড়ে। তার দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চলছে এবং বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় ছাত্রদল-শিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষ: রাজধানীর ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় হল দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে মাদরাসা ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দুই গ্রুপের মাঝে পুলিশ অবস্থান করছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, হল দখলকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিকেলের দিকে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্র হাতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং মুখোমুখি অবস্থান নিতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেশীয় অস্ত্র হাতে সংঘর্ষে জড়ানোর দৃশ্য দেখা গেছে। এসব ভিডিওতে কয়েকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে সহপাঠীরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের সঠিক সংখ্যা ও পরিচয় জানা যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দুই গ্রুপের মাঝে পুলিশ অবস্থান করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। তবে এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।





