শেখ হাসিনা বিশ্বসেরা অভিনেত্রী: স্পিকার

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৫৩ অপরাহ্ন, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:২৯ অপরাহ্ন, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বসেরা অভিনেত্রী’ তকমা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় ভোলার লালমোহন উপজেলা নাগরিক সমাজের আয়োজনে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন: নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে শিক্ষা ও আর্থিক স্বাবলম্বিতা জরুরি: রিজভী

স্পিকার বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বসেরা অভিনেত্রী। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের গণভবনে ডেকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি গুমের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা ছিল।’

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গুম হওয়া স্বজনদের গণভবনে ডেকে তাদের স্ত্রী-সন্তানদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতেন শেখ হাসিনা। তাদের আশ্বস্ত করতেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। অথচ তার ভেতরেই গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার হিংস্র মনোভাব লুকিয়ে ছিল।’

আরও পড়ুন: তরুণরা চাইলে দেশটাকে পরিবর্তন করা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা নিজেই জানতেন গুম হওয়া ব্যক্তিরা কোথায় আছেন। কিন্তু স্বজনদের সামনে তিনি এমনভাবে অভিনয় করতেন, যেন তাদের ফিরে পাওয়ার জন্য তিনি নিজেও উদ্বিগ্ন। জনগণ তখন বিষয়টি বুঝতে পারেনি। এখন সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেছে।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের ঘটনায় সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, ‘গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে এখন জনগণের কাছে অনেক কিছুই পরিষ্কার হয়েছে। শেখ হাসিনা বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী এবং গুমের নির্দেশদাতা ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘একজন ব্যারিস্টারকে আট বছর হাতকড়া পরিয়ে আয়না ঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তার সঙ্গে কতটা নির্মম ও জঘন্য আচরণ করা হয়েছে, তা কল্পনা করা যায় না। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি মুক্ত হয়েছেন এবং এখন সংসদ সদস্য হয়েছেন।’

বিগত সরকারের বিরুদ্ধে লুটপাট ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে একটি বালিশের দাম ৬০ হাজার টাকা এবং একটি পর্দার দাম ৪২ হাজার টাকা ধরা হয়েছিল।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘তৎকালীন একজন ভূমি প্রতিমন্ত্রীর লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি রয়েছে। সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ না করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।’

লালমোহনের স্থানীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ‘বিগত সরকারের সময়ে এখানকার স্থানীয় এমপি ছিলেন একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও খুনি। ২০১০ সালের উপনির্বাচনে ঢাকা থেকে সন্ত্রাসী এনে দিনদুপুরে আমার নেতাকর্মীদের রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। ভাঙচুর করা হয় বাড়িঘরও।’

তিনি বলেন, ‘আমার নির্বাচনি প্রধান সমন্বয়ক এবং ভোলা-৪ আসনের সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলমকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছিল। আমি তাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েও প্রবেশ করতে পারিনি।’

মতবিনিময় সভার শেষ পর্যায়ে নিজের নির্বাচনি এলাকার মানুষের কাছে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনে তারা সন্তুষ্ট কি না, তা জানতে চান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

সংসদীয় পদ্ধতির আদলে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মতামত জানতে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নেওয়া হয়। ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের করতালির মধ্য দিয়ে মতবিনিময় সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

সভায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।