মিছিল-মিটিং নয়, পেশাজীবীদের মর্যাদার জন্য সংগঠন: রিজভী

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:১০ অপরাহ্ন, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১:০৬ অপরাহ্ন, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শুধু মিছিল–মিটিং করার উদ্দেশ্যে জাতীয়তাবাদীর নাম ব্যবহার করে সংগঠন গড়ে তোলার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সমাজে সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর উপযোগী পরিবেশ তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, “শুধু মিছিল–মিটিংয়ের জন্য সংগঠন তৈরি করলেই হবে না। মোটরযান চালকসহ এই পেশার মানুষরা যেন সমাজে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে, পুলিশি হয়রানির শিকার না হয়—সেসব বিষয়কে সামনে রেখে আইন প্রণয়ন করতে হবে।”

আরও পড়ুন: এবার গানম্যান পেলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মোটরযান চালক দল আয়োজিত সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা উদ্বোধন ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, “দেশে গরিব মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমজীবী শ্রেণিই সবচেয়ে বেশি হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়। সেই নির্যাতন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এবং একটি সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মোটরযান চালক পেশাকে মর্যাদাসম্পন্ন পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”

আরও পড়ুন: পিছনের দরজা দিয়ে গণতন্ত্র ধ্বংসের ষড়যন্ত্র এখনো চলছে: ডা. রফিক

তিনি তার বিদেশ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমি আমেরিকায় দেখেছি—বাংলাদেশের অনেক বিএ পাস, এমএ পাস, এমনকি ইঞ্জিনিয়ার ও ডাক্তাররাও সেখানে উবার বা ট্যাক্সি চালান। তারা ওই পেশায় যুক্ত থেকেও উন্নত মানের জীবনযাপন করেন, বাড়ি কেনেন। সেখানে কোনো শ্রেণিভেদ নেই। একজন ট্যাক্সিচালক ও একজন পেশাজীবীর সামাজিক মূল্য সমান।”

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, “আমাদের দেশেও এমন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে ছোট কাজ–বড় কাজের বিভাজন থাকবে না। এই লক্ষ্যেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান তার ৩১ দফা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।”

রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, “যে শিক্ষিত যুবক বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করেও চাকরি পাচ্ছে না, তারা উন্নত দেশের মতো উবার বা ট্যাক্সি চালিয়ে অন্তত নিজের ও পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারে। তবে এজন্য রাষ্ট্রকে উদ্যোগী হতে হবে, সহযোগিতা করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সংগঠক সঞ্জয় দে রিপনের সভাপতিত্বে এবং প্রধান সমন্বয়কারী আরিফুর রহমান তুষারের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা মীর সরাফত আলী শফু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মোটরযান চালক দলের সদস্য সচিব এ কে এম ভিপি মুসাসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।