শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে যা জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর
জানুয়ারি মাসে দেশজুড়ে শৈত্যপ্রবাহের দাপট শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ আঘাত হানতে পারে, যার মধ্যে অন্তত একটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীত অনুভূত হলেও গত চার দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা কিছুটা কমে এসেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা আবার ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। এই কম তাপমাত্রার প্রভাব আগামী শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকায় তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, আকাশ আংশিক মেঘলা
আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঢাকায় আজ সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা গতকালের তুলনায় কিছুটা কম। গতকাল রাজধানীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বর্তমানে দেশের মধ্যে শুধু পঞ্চগড় জেলায় শৈত্যপ্রবাহ প্রবলভাবে বয়ে যাচ্ছে। টানা ১০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা শীতের প্রভাব এখন দেশের সবচেয়ে কম অঞ্চলে সীমিত হয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আরও পড়ুন: শৈত্যপ্রবাহের মধ্যেই সুখবর দিলো আবহাওয়া অধিদপ্তর
আজ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল একই এলাকায় তাপমাত্রা ছিল ৭.৫ ডিগ্রি। টানা সাত দিন ধরে তেঁতুলিয়া দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা স্থান হিসেবে এগিয়ে রয়েছে। এর আগে সোমবার তাপমাত্রা ছিল ৮.৪ ডিগ্রি এবং রোববার ছিল ৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াবিদরা জানান, সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ভিত্তিতে শৈত্যপ্রবাহকে কয়েকটি স্তরে ভাগ করা হয়। ৮.১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬.১ থেকে ৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি, ৪.১ থেকে ৬ ডিগ্রি হলে তীব্র এবং ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে হলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামীকাল থেকে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য এলাকাতেও শীতের অনুভূতি আরও বাড়বে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের শীত থেকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।





