মেয়েকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে মা-বাবা
নিখোঁজের ৬ মাসেও সন্ধান মিলছে না ডেমরার রুবিনা

নিখোঁজের দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও সন্ধান মিলছে না ডেমরার তরুণী মোছা রুবিনা (২৪)। কবিরাজি চিকিৎসা নিতে গিয়ে গত ৭ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার আব্দুল্লাহবাগের রোজাউল করিম নামের কবিরাজের বাসা থেকে নিখোঁজ হয় অসুস্থ মেয়েটি। কবিরাজের নির্দেশ অনুযায়ী বাইরে দাঁড় করিয়ে ভেতর থেকে সিরিয়াল দিয়ে ওষুধ আনতে গেলে মেয়েটিকে সেখানে খুঁজে পাননি তার মা। এ বিষয়ে কবিরাজের সিসি ক্যামেরা চেক করার কথা বললেও তা নিষ্ঠ বলে জানানো হয়, কারণ অনেক মানুষের সমাগম ওই কবিরাজ বাড়িতে ছিল।
নিখোঁজের পরদিন, ৮ মার্চ বাড্ডা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এ বিষয়ে কোনো আইনি সহায়তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন রুবিনার মা। এ ঘটনায় কবিরাজের ভূমিকাও এখন পর্যন্ত রহস্যজনক। রুবিনা ডেমরার সারুলিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তার পিতা-মাতার সঙ্গে বসবাস করে আসছিলেন। কেউ যদি রুবিনাকে চোখে দেখেন, তবে তার বাবা মো. হযরত আলীর (০১৮১২০৮৩৮২৪) মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে শিক্ষার্থী মায়মুনা হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার মূল আসামী আপন ফুফা
রুবিনার মা হাজেরা খাতুন বলেন, তিনি একজন গার্মেন্টস কর্মী ও তার স্বামী পাথর ভাঙ্গার কাজ করেন। মেয়ের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তারা রুবিনাকে ৭ মার্চ উত্তর বাড্ডায় রোজাউল করিম নামের এক কবিরাজের বাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন। কবিরাজের নির্দেশ অনুযায়ী ভেতর থেকে সিরিয়াল দিয়ে ওষুধ আনার পর দেখা যায় রুবিনা সেখানে নেই। এরপর থেকে আর তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
রুবিনার উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট, গায়ের রং ফর্সা, মুখমণ্ডল গোলাকার। নিখোঁজের সময় তার পরনে ছিল হলুদ রঙের সালোয়ার কামিজ। সম্ভাব্য আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র ও বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি চালিয়ে যাচ্ছেন রুবিনার মা-বাবা। তিন বোনের মধ্যে রুবিনা মেজ, অসুস্থ বলে এখনও তার বিয়ে হয়নি। তাই মেয়েকে খুঁজে না পাওয়ার কষ্টে তারা আজ বিধ্বস্ত। মেয়ের সন্ধানে চাকুরি, ঘুম, খাওয়া সবকিছু ছেড়ে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে অপেক্ষা করছেন হতাশাগ্রস্ত এই মা-বাবা। এখনো তারা আশায় বুক বেঁধে আছেন, কেউ হয়তো কোনোভাবে মেয়ের সন্ধান দিয়ে সাহায্য করতে পারেন।
আরও পড়ুন: গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০ জন
এ বিষয়ে বাড্ডা থানার এসআই সৈয়দ গোলাম মাওলা বলেন, রুবিনার বিষয়ে প্রতিটি থানায় ছবিসহ তথ্য প্রদান করা হয়েছে শুরু থেকেই। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়েটি নাকি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। সে বাড়ি থেকেও অনেক সময় একা বের হয়ে যেত, একা একা কথা বলতো। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।