‘শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না, প্রজন্মের ভবিষ্যৎও গড়েন’—পাকুন্দিয়ায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস
একটি শ্রেণিকক্ষ, একদল শিক্ষার্থী আর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন শিক্ষক—এই দৃশ্যের আড়ালেই তৈরি হয় একটি সমাজের আগামী দিনের গল্প। পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীর চিন্তা, মূল্যবোধ ও স্বপ্নকে পথ দেখানোর দায়িত্বও থাকে শিক্ষকের কাঁধে। সেই দায়িত্ব ও মর্যাদার কথাই সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় উদযাপন করা হয়েছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদ এলাকায় ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্য। ‘শিক্ষকের মর্যাদা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষার মানোন্নয়ন’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন ও সর্বস্তরের শিক্ষকরা আয়োজন করেন বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার। সকাল ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হয় র্যালি। পৌরসদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সেটি আবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফিরে আসে। এরপর সম্মেলন কক্ষে শুরু হয় আলোচনা।
আরও পড়ুন: রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় কুবিসাসের নিন্দা
ইউএনও রূপম দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ শারফুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন পাকুন্দিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক ভূঁইয়া, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আফছর উদ্দিন আহম্মেদ মানিক, চরকাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম, চরকাওনা মধ্যপাড়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. এমদাদুল হক মাসুদসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। আলোচনায় বক্তাদের কথায় বারবার উঠে আসে একটি বিষয়—শিক্ষার মানোন্নয়ন শুধু অবকাঠামো কিংবা পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না। দক্ষ, দায়িত্বশীল ও মানবিক শিক্ষক তৈরি করাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও বাস্তবজীবনের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
আরও পড়ুন: ‘পুরো পটুয়াখালী হতে পারে পর্যটনের নতুন গন্তব্য: মো. শামিমুজ্জামান
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক—তিন পক্ষের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু বইমুখী রাখলে হবে না; মাদক থেকে দূরে রাখতে তাদের খেলাধুলা ও কারিগরি দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। আর শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে শিক্ষকদের আরও বেশি দায়িত্বশীল ও আন্তরিক হতে হবে।
একটি শিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্মের পাশাপাশি নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ নাগরিক তৈরির জন্য শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং অনুকূল শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষকের প্রভাব একটি শ্রেণিকক্ষ ছাড়িয়ে পরিবার, সমাজ এমনকি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তাই শিক্ষকতার পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি এই পেশার সামাজিক মর্যাদা ও মূল্যায়নও বাড়াতে হবে।





