মিরপুরে সংঘর্ষ-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৪ মামলা, আসামি ১ হজার
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর মডেল থানায় তিনটি এবং কাফরুল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। চার মামলায় মোট প্রায় এক হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মিরপুর মডেল থানায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পক্ষ থেকে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে একটি মামলা, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি এবং ট্রাফিক পুলিশ বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেছে।
আরও পড়ুন: ৪৯তম বিসিএসে বাদ পড়া ৪৬ জনের গেজেট সোমবার
ওসি বলেন, তিন মামলায় আসামির সংখ্যা ৪০০ থেকে ৫০০ জনের মধ্যে।
অন্যদিকে কাফরুল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এতে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য করা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছিল।
অভিযানের একপর্যায়ে হোপ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে থাকা ভাসমান দোকান সরানোর সময় ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায় বলে স্থানীয় দোকানি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে মার্কেটের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আগুন লাগার পর ক্ষুব্ধ হকার ও দোকানিরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও হকারদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
এ সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশের একটি গাড়ির কাচও ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর পর্যন্ত সড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরাও বাধার মুখে পড়েন।
পরে দুপুরের দিকে ডিএনসিসি আবারও উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। এ সময় মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে থাকা ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়।
দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলো পরিদর্শন করেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান। পরে তিনি বলেন, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিকল্পিত। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে।





