আবারও ভয়ংকর সিন্ডিকেটের খপ্পরে বাংলাদেশ: নাহিদ ইসলাম

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:১৮ অপরাহ্ন, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৫:১৮ অপরাহ্ন, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে আবারও অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এক কেজি মাল্টা বর্তমানে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং গত দুই মাস ধরে এমন অস্বাভাবিক দাম চলছে। তার দাবি, নথিপত্র অনুযায়ী আমদানিতে প্রতি কেজি মাল্টার ক্রয়মূল্য মাত্র ৮৭ টাকা। আমদানি শুল্ক, পরিবহন ব্যয় ও মুনাফা হিসাব করলেও প্রতি কেজির সর্বোচ্চ খরচ ২১০ টাকা হওয়ার কথা। সে হিসাবে খুচরা বাজারে মাল্টার দাম ২৫০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।

আরও পড়ুন: বাবাকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিলেন ফখরুল কন্যা

তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরবরাহ সংকটের কথা বলা হলেও গত বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে অন্তত ২২ শতাংশ বেশি মাল্টা আমদানি হয়েছে। তার অভিযোগ, এর ফলে গত দুই মাসে অসাধু সিন্ডিকেট জনগণের কাছ থেকে কয়েকশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, ১২০ টাকার পোলাওয়ের চাল এখন ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তার ভাষ্য, সুগন্ধি চাল দেশের অভ্যন্তরেই উৎপাদিত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক যুদ্ধ বা সংকটের কারণে এ পণ্যের দাম বাড়ার যৌক্তিকতা নেই।

আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জ এলজিইডিতে নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়োগে তিন এমপির একরকম ডিও নিয়ে প্রশ্ন

বিদেশে রপ্তানির কারণে দাম বেড়েছে—এমন যুক্তিরও সমালোচনা করেন তিনি। নাহিদের দাবি, ২০০৯ সালে রপ্তানি শুরুর পর ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি হলেও সে সময় দাম ১২০ টাকার বেশি ছিল না। তার হিসাব অনুযায়ী, গত তিন মাসে শুধু পোলাওয়ের চাল থেকেই আনুমানিক দেড় হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে।

ডিমের দাম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রতি ডজন ডিমের গড় দাম ছিল ১২০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ১৬০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ একটি ডিম কিনতে এখন ১৫ টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

ডিমের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে মুরগির খাবারের মূল্যবৃদ্ধির কথা বলা হলেও, নাহিদের দাবি—খাবারের দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে প্রতি ডিমের দাম প্রায় ১ টাকা বাড়তে পারে। কিন্তু বাস্তবে দাম বেড়েছে ৫ টাকা। তার অভিযোগ, এতে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জনগণের পকেট থেকে অতিরিক্ত কয়েক হাজার কোটি টাকা চলে গেছে।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ব্রয়লার মুরগির দাম ১৬০ টাকায় রেখে গেলেও বর্তমানে তা কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগেই দুধের দামও বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সরকার কয়েক দফায় বাড়িয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এরপরও নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতিটি সিলিন্ডারে অন্তত ১ হাজার টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার কথা বলা হলেও অতিরিক্ত এই অর্থ কারা নিচ্ছে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, চাল, আটা, তেল, চিনি, মুরগি, মাছ, সবজিসহ প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। মানুষের আয় না বাড়লেও প্রতিনিয়ত বেড়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়। তার দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে দেশের মানুষ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থেকে অনেকটাই রেহাই পেয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর কার মদদে ও কার ইন্ধনে সেই সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হয়েছে, তা জানতে চান তিনি।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও বিএনপির নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির কারণে মানুষ এমনিতেই চাপে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ। তার অভিযোগ, এর মধ্যে আবার ফ্যাসিবাদী আমলের মতো সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে দেশের মানুষ।

জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ লুটের এই ব্যবস্থা দ্রুত বন্ধ এবং সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে দেশের মানুষের জীবন নিয়ে আর কোনো অপশক্তিকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন এনসিপির এই নেতা।