জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য

Sadek Ali
শামসুজ্জামান শামস
প্রকাশিত: ৯:০৮ পূর্বাহ্ন, ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩১ পূর্বাহ্ন, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন, যা একই সাথে দুটি বিপরীতমুখী ধারার রাজনৈতিক সমীকরণের এক ঐতিহাসিক মোহনা। এটি কেবল একটি তারিখ নয়, বরং স্বাধীনতা রক্ষার এক কঠিন পরীক্ষার প্রতীক। ‘স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন’—এই চিরন্তন সত্যটিই যেন ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর আবার নতুন করে প্রমাণিত হয়েছিল। এই দিনটি ছিল বাংলাদেশের নিপীড়িত, বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের শৃঙ্খলমুক্তির এক নতুন অধ্যায়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার এক ঐতিহাসিক অভুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ এক চরম অনিশ্চয়তা ও সংকটের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল। বন্দীদশা থেকে মুক্ত হয়েছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। এই ঐতিহাসিক দিনটিই বাংলাদেশে প্রতিবছর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। এটি কেবল একটি সাধারণ সামরিক অভ্যুত্থান ছিল না, বরং এটি ছিল দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার এক বহিঃপ্রকাশ। এই দিবসের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং সার্বভৌম অস্তিত্বের পরতে পরতে।

সিপাহী-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ: ১৯৭৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়কাল ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তাল ও সংঘাতময় অধ্যায়। ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছিল। ৩ নভেম্বরের সামরিক অভ্যুত্থানের পর সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান বন্দি হন। দেশের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনীর তরুণ সদস্য এবং সাধারণ জনগণ এক ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। তারা কাঁধে কাঁধ রেখে দেশের প্রয়োজনে জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে নিয়ে আসেন। এই বিপ্লব নিছক একটি সামরিক অভ্যুত্থান ছিল না, এটি ছিল সিপাহী-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ। এই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি রচিত হয়

বিএনপি সম্পর্কে বিশেষত জিয়াউর রহমানের প্রতি আওয়ামী লীগের যে তীব্র ক্ষোভ ও বিদ্বেষ দেখা যায়, তার অন্যতম প্রধান কারণ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের ঘটনা। যখন তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিজেদের জীবন বাঁচাতে পালিয়ে গিয়েছিলেন, তখন জিয়াউর রহমান জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই ঘোষণা লাখ লাখ মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে। এই ঘটনা তাকে জনগণের কাছে এক অনন্য উচ্চতায় স্থাপন করে। ৭ নভেম্বর কারাগারের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে জিয়াউর রহমান হয়ে ওঠেন দেশের মুকুটহীন সম্রাট। তার অসীম সাহস, প্রগাঢ় দেশপ্রেম, দূরদৃষ্টি, ন্যায়নিষ্ঠা এবং সত্যনিষ্ঠা তাকে রাজনৈতিক ময়দানের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতায় পরিণত করে। তিনি শুধু সময়ের বরপুত্রই ছিলেন না, বরং তিনি সময়কে তার কর্মের অধীন করে দেশের কালপ্রবাহকে এক যৌক্তিক ও সমৃদ্ধির পথে ধাবিত করেছিলেন।

সিপাহী-জনতার অভূতপূর্ব সংহতি : এই দিবসের নামকরণের পেছনে ‘সংহতি’ শব্দটি অত্যন্ত অর্থবহ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে বা পরে কখনো সামরিক বাহিনীর সাধারণ সদস্য এবং আপামর জনগণের এমন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে নেমে আসার নজির দেখা যায়নি। ৩ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের সাধারণ জনগণের মনে এক গভীর সংশয় ও ভীতি তৈরি হয়। রেডিও-টেলিভিশন বন্ধ ছিল এবং মানুষ আশঙ্কা করছিল যে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হয়তো কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাবে হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে ৬ নভেম্বর গভীর রাতে (৭ নভেম্বরের প্রথম প্রহরে) ঢাকা সেনানিবাসের সাধারণ সৈনিক তথা সিপাহীরা বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তারা সেনানিবাসের প্রাচীর ভেঙে ঢাকার রাজপথে নেমে আসেন এবং তাদের সাথে যোগ দেয় হাজার হাজার সাধারণ জনতা। এই সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মাধ্যমে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। সিপাহীরা জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে ট্রাকে করে যখন রাজপথে নিয়ে আসেন, তখন সাধারণ মানুষ ফুল দিয়ে, স্লোগান দিয়ে তাদের বরণ করে নেয়। এই ঐতিহাসিক ঐক্য প্রমাণ করে যে, দেশের যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে দেশের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনী এক সুতোয় বাঁধা। ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো দেশের সার্বভৌমত্ব সুসংহত করা। ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পেছনে ভূ-রাজনৈতিক কোনো গভীর ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা নিয়ে সাধারণ সৈনিকদের মনে তীব্র সন্দেহ ছিল। ৭ নভেম্বরের বিপ্লব সেই সংশয় দূর করে এবং এটি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও প্রশাসনে বাইরের কোনো শক্তির অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ দেশের জনগণ ও সেনাবাহিনী মেনে নেবে না। এই দিনটি বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে টিকিয়ে রাখার ভিত্তি মজবুত করে। মুক্তিলাভের পর জিয়াউর রহমান দেশকে এক ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে তুলে এনেছিলেন। তার হাত ধরেই বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করার জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেন। ‘খাল কাটা’ কর্মসূচি, ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থা এবং নতুন শিল্পনীতি গ্রহণের মাধ্যমে তিনি কৃষি ও শিল্প খাতে নতুন জীবন সঞ্চার করেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল ও প্রগতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করে। তিনি বৈদেশিক সম্পর্ক জোরদার করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেন।

আরও পড়ুন: মহাকাব্য ও মহাকাব্য পরিচিতি

অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ : ৭ নভেম্বরের সফল বিপ্লবের মধ্য দিয়ে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। তাঁর হাত ধরেই পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রে ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’-এর তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বিকাশ ঘটে। এই জাতীয়তাবাদ ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিককে একটি অভিন্ন ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ করতে সাহায্য করে। এটি বাঙালির জাতিগত পরিচয়ের সাথে নাগরিক ও রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের এক চমৎকার সমন্বয় ঘটায়। ১৯৭৫ সালের শুরুতে দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা (বাকশাল) প্রবর্তনের ফলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল। ৭ নভেম্বরের পটভূমির ধারাবাহিকতায় দেশে একদলীয় ব্যবস্থার অবসান ঘটে। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের দুয়ার উন্মুক্ত করেন। রাজনৈতিক দলগুলোকে অবাধে রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এর ফলে দেশের রাজনীতিতে আবার প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। ৭ নভেম্বরের বিপ্লব কেবল রাজনৈতিক পটপরিবর্তনই আনেনি, বরং দেশের অর্থনীতিতেও এক বড় রূপান্তর এনেছিল। সমাজতান্ত্রিক ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক মডেল থেকে বের হয়ে বাংলাদেশ মুক্তবাজার অর্থনীতির যুগে প্রবেশ করে। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ‘খাল কাটা কর্মসূচি’, কৃষি বিপ্লব এবং তৈরি পোশাক শিল্পের (গার্মেন্টস সেক্টর) মতো যুগান্তকারী উদ্যোগগুলোর সূচনা এই পটভূমির পরই শুরু হয়েছিল, যা আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোরপ্রেরণা যোগায় : সময়ের আবর্তে রাজনৈতিক কারণে এই দিবসের উদযাপন ও  মূল্যায়নে নানা চড়াই-উতরাই এসেছে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৭ নভেম্বরকে পুনরায় ‘ক’ শ্রেণীভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে পুনর্বহাল করেছে এবং সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। আজকের দিনে দাঁড়িয়েও, যখনই দেশের সার্বভৌমত্ব কিংবা গণতন্ত্র কোনো সংকটের মুখোমুখি হয়, তখনই ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনা দেশের মানুষকে একতাবদ্ধ হওয়ার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর নতুন প্রেরণা যোগায়।

দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার উদ্যোগে প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হবে।

জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় দেশের সব মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত করা হবে। পাশাপাশি মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

এ ছাড়া হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশুকেন্দ্র, শিশু পরিবার, শিশুসদন, কিশোর সংশোধনী কেন্দ্র, শান্তি নিবাস ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। দেশের সব শিশু পার্ক শিশুদের জন্য দিনব্যাপী বিনা টিকিটে উন্মুক্ত থাকবে। নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতা। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ, সাহিত্য-সাময়িকী ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিওতে প্রচার করা হবে বিশেষ অনুষ্ঠান। সিনেমা হল ও ভ্যানযোগে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেশাত্মবোধক গানের আসর বসবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা এবং প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে বিশেষ স্মারক আলোচনা সভা হবে। সশস্ত্র বাহিনীর উদ্যোগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মিলাদ মাহফিল, প্রীতিভোজ ও বিশেষ দরবারের আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশ ক্যাডেট কোরের তত্ত্বাবধানে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে প্রদর্শিত হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, কোস্ট গার্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, এনটিএমসি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদর দপ্তরে মিলাদ মাহফিল, প্রীতিভোজ ও বিশেষ দরবারের আয়োজন করা হবে।

উপসংহার: ৭ নভেম্বরের পটভূমির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে বাংলাদেশে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর রাজনৈতিক দর্শনের বিকাশ ঘটে। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল গঠনের মাধ্যমে যে একদলীয় ব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল, ৭ নভেম্বরের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের রাজনীতিতে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্রের দুয়ার উন্মোচিত হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম চালুর অধিকার এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আংশিকভাবে ফিরে আসতে শুরু করে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস কেবল একটি ঐতিহাসিক দিন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক গতিপথ বদলে দেওয়ার এক অমীমাংসিত অধ্যায়। দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও, এটি অনস্বীকার্য যে ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশকে একটি দীর্ঘস্থায়ী সামরিক-রাজনৈতিক মেরুকরণের দিকে নিয়ে যায়, যার প্রভাব আজ অবধি দেশের রাজনীতিতে বিদ্যমান।

 লেখক : সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক