সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও কিশোরগঞ্জে পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত ৬, আহত অন্তত ১৯

বেপরোয়া গাড়ী চলাচলের বলি ৬ প্রাণ

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:৪১ অপরাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২:৪১ পূর্বাহ্ন, ০৯ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সড়কে বেপরোয়া যান চলাচল, অসতর্কতা ও নিরাপত্তাবিধি উপেক্ষার অভিযোগের মধ্যেই দেশের তিন জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৯ জন। শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও কিশোরগঞ্জের মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন দুর্ঘটনাতেই বাসসহ একাধিক যানবাহন জড়িত ছিল। সিরাজগঞ্জে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে দুজন, নাটোরে বাস ও গবাদিপশুবাহী ট্রাক্টরের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন এবং কিশোরগঞ্জে বাসের ধাক্কায় আরও দুজন নিহত হন। দুর্ঘটনাগুলোর কারণ খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। পাশাপাশি নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ব্যবসায়ীকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মোটরসাইকেল ও টাকা ছিনতাই

সিরাজগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২: 

শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের নলকা ওভারপাস এলাকায় বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে দুজন নিহত এবং অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: মহাখালীতে ৪ তলা ভবনের ছাদে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে

পুলিশ জানায়, দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী একটি নৈশকোচ নলকা ওভারপাস এলাকায় পৌঁছালে সিরাজগঞ্জ শহরের দিক থেকে আসা একটি ট্রাক বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের একজন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বুড়িয়াগঞ্জ গ্রামের মো. মনসুর আলী (২৬)। অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে যমুনা সেতু পশ্চিম থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান। আহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাক আটক করেছে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, যানবাহন দুটির গতি, চালকদের দায়িত্বশীলতা এবং সংশ্লিষ্ট কোনো আইন বা নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘন করা হয়েছিল কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নাটোরে গবাদিপশুবাহী ট্রাক্টরে বাসের ধাক্কা, নিহত ২: 

শনিবার সকালে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের নয়াবাজার এলাকায় বাস ও গবাদিপশুবাহী ট্রাক্টরের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন বড়াইগ্রাম উপজেলার মো. আব্দুর রহমান (৭০) ও মো. আক্কাস আলী (৬৩)।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, কয়েকজন ব্যবসায়ী ট্রাক্টরে করে গবাদিপশু নিয়ে সিরাজগঞ্জের একটি হাটে যাচ্ছিলেন। নয়াবাজার এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির বাসের সঙ্গে ট্রাক্টরটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ঘটনাটি তদন্ত করে দুর্ঘটনার জন্য কারও আইনগত দায় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল শিশু ও যুবকের: 

শনিবার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার বরাটিয়া চৌরাস্তা বাজার এলাকায় ঢাকা-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় দুজন নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন পাকুন্দিয়া উপজেলার বাহাদিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে সেলিম (৩৮) এবং মাহতাব উদ্দিনের ছেলে উজ্জ্বল (৫)।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম আরিফুর রহমান দুজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী অনন্যা পরিবহনের একটি বাস বরাটিয়া চৌরাস্তা বাজারের কাছে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাক্টরের পেছনে ধাক্কা দেয়। এ সময় ট্রাক্টরের পাশে থাকা সাইকেল আরোহী রেনু মিয়াকে বাসটি চাপা দিলে তিনি আহত হন।

এরপর বাসটি বাজারে মো. মাসুদের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অটোরিকশায় ধাক্কা দেয়। বাসের ধাক্কায় অটোরিকশাটি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ গজ দূরে ছিটকে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে সেলিম ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

দুর্ঘটনায় আহত তিন থেকে চারজনকে স্থানীয়রা পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে রেনু মিয়াও রয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। দুর্ঘটনার পর বাসটির চালকের ভূমিকা, যানবাহনের গতি, সড়কের পরিস্থিতি এবং ট্রাফিক আইন ও নিরাপত্তাবিধি মানা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হবে।

দায় নির্ধারণে তদন্তের অপেক্ষা

একই সময়ে তিন জেলায় পৃথক দুর্ঘটনায় ছয়জনের প্রাণহানি এবং অন্তত ১৯ জন আহত হওয়ার ঘটনায় আবারও সড়ক নিরাপত্তা ও চালকদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে দুর্ঘটনার জন্য কোনো ব্যক্তি বা চালককে দায়ী করার আগে পুলিশি তদন্ত ও প্রাসঙ্গিক প্রমাণ যাচাই জরুরি।

সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কারও গাফিলতি, বেপরোয়া বা অসতর্ক গাড়ি চালানো, যানবাহনের ত্রুটি কিংবা অন্য কোনো আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।