আমেরিকা প্রবাসী নারীকে বিয়ের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইলিং, কোটি টাকা আত্মসাতে গ্রেপ্তার১
আমেরিকা প্রবাসী এক বাংলাদেশি নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. সালাউদ্দিন (২৯)। তিনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছমদর পাড়ার বাসিন্দা। গত ২০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)-এর সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট টিম তাকে গ্রেপ্তার করে।
আরও পড়ুন: ৩৪১ পুলিশ সদস্য পাচ্ছেন আইজিপি পদক
সিআইডি জানায়, অভিযুক্ত মো. সালাউদ্দিন নিজেকে ‘নাদিম আহমেদ সুমন’ নামে কানাডা প্রবাসী ও বিপত্নীক পরিচয় দিয়ে ফেসবুক ম্যারেজ মিডিয়া পেজ “BCCB Matrimonial: Heavenly Match”-এর মাধ্যমে ভিক্টিমের সঙ্গে পরিচিত হন। বিশ্বাস অর্জনের জন্য তিনি ভিডিও কলে নিজের মা ও বোন পরিচয়ে আরও দুইজনকে যুক্ত করেন।
পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তি আমেরিকায় যাওয়ার কথা বলে ভিক্টিমের কাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে আর্থিক সহায়তা নিতে থাকেন। এক পর্যায়ে ভিডিও কলে কৌশলে ভিক্টিমের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল শুরু করেন।
আরও পড়ুন: এসপি ওসি নিয়োগে গুরুতর অনিয়ম ও বাণিজ্য
ভয়ভীতি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিকাশের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভিক্টিমের কাছ থেকে আনুমানিক ১ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার আত্মসাৎ করেন, যার বর্তমান বাংলাদেশি মূল্য প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় ভিক্টিমের ভাই বাদী হয়ে মিরপুর মডেল (ডিএমপি) থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-১৬, তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০২৬। মামলায় পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৪০৬/৪২০ ধারা এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২-এর ৮(১)/৮(২)/৮(৭) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলাটি সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার অধিগ্রহণ করে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন ও সিম আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত মো. সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে পূর্বেও একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ৮০ থেকে ৮৫ জন নারীর সঙ্গে একই কৌশলে প্রতারণা করার কথা স্বীকার করেছেন।
এছাড়া ডিএমপির মোহাম্মদপুর থানার মামলা নম্বর-৪৯ (তারিখ: ০৬ এপ্রিল ২০২৪), পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২-এর ৮(১)/৮(২)/৮(৭) ধারার মামলায় তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল। জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) পরিচালনা করছে। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত সহযোগীদের শনাক্তকরণ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।





