এটিইউ ও সিটিটিসির নাম পরিবর্তন প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:১২ অপরাহ্ন, ০৪ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৪:২৩ পূর্বাহ্ন, ০৬ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে কাজ করা পুলিশের বিশেষায়িত দুটি ইউনিট—অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)—এর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এটিইউর নতুন নাম হবে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ) এবং সিটিটিসির নাম হবে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি (এসএসইউ-ডিএমপি)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন: ৩৩ ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও এসপিকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান

সূত্র জানায়, গত ৭ জুন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রস্তাবে এটিইউর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ)’ করার অনুমোদন চাওয়া হয়। পরদিন ৮ জুন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে সিটিটিসির নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি (এসএসইউ-ডিএমপি)’ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া শাখার এএইচএম শাহাদাত হোসেন জানান, ইউনিটগুলোর কার্যকারিতা আরও জোরদার করতে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের মূল নিরাপত্তা-সংক্রান্ত দায়িত্ব অপরিবর্তিত থাকবে।

আরও পড়ুন: ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তা নিয়োগ

তিনি বলেন, নতুন নামকরণের প্রস্তাব ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

আইজিপির পক্ষে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এডিশনাল আইজিপি) পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেটের বিস্তার এবং তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকির ধরন বদলে গেছে। এ বাস্তবতায় প্রচলিত নিরাপত্তা কাঠামোকে সময়োপযোগী ও আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, উগ্রবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলো বর্তমানে হামলার পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। পাশাপাশি ধর্মের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করা, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল মাধ্যমে তরুণদের গোপন ‘স্লিপার সেল’-এ সম্পৃক্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

এসব পরিবর্তিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটিইউকে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’-এ রূপান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় ইউনিটটি শুধু জঙ্গিবাদ দমনেই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জাতীয় স্থিতিশীলতা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও আরও বিস্তৃত ভূমিকা পালন করবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ নামটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হওয়ায় বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ও জোরদার হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে রাজধানীর হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর বিশেষায়িত সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট হিসেবে এটিইউ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ইউনিটটি কার্যক্রম শুরু করে। এরপর থেকে সংস্থাটি সারা দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ইউনিটগুলোর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে একটি প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।