শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক, বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেয়ে শুচিতা শারমিন।
শুচিতা শারমিন বলেন, দুপুরে বাবা মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন। সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে বেলা আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: নতুন পে-স্কেলের গেজেটে বিলম্ব, সেপ্টেম্বরে প্রকাশের সম্ভাবনা; বকেয়াসহ বেতন পাওয়ার আশা
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে দেশ একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও লেখককে হারালো। তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যুতে দেশের শিক্ষা অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। প্রধানমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বলে বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শাইরুল কবির খান জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: গ্রামই জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি, পল্লি উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রাবন্ধিক, রাষ্ট্রচিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি. এম. কাদের। এক শোকবার্তায় জি. এম. কাদের বলেন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যু দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর সৃষ্টিশীল অবদান জাতির স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক এবং বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আমানুল্লাহ। এক শোকবার্তায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন দেশের একজন বরেণ্য বুদ্ধিজীবী এবং সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার অন্যতম রূপকার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল। রোববার এক শোকবার্তায় জানানো হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করছে।
বাংলা একাডেমির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে কবি-লেখকদের মাঝে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকাবহ বার্তা ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে পড়েন নেটিজেনরা।
সরকার আমিন লিখেছেন, “বাংলা একাডেমির সভাপতি প্রফেসর আবুল কাসেম ফজলুল হক মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি ছিলেন আমার শিক্ষক। খুব কাছ থেকে একজন ভালো মানুষকে দেখেছি।”
শামস সাঈদ লিখেছেন, “অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক স্যার আর নাই। তাঁর মৃত্যুতে আমরা হারালাম একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, সাহিত্যসমালোচক ও মুক্তবুদ্ধির চিন্তককে। তিনি সারাজীবন জ্ঞানচর্চা, যুক্তিবাদ, মানবিক মূল্যবোধ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার কাজে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন।”
গিরীশ গৈরিক লিখেছেন, “বিদায় স্যার আবুল কাসেম ফজলুল হক। এত স্মৃতি, এত কথা কখনো ভুলবার নয়! কত সাক্ষাৎকার, কত অনুষ্ঠান। আমার প্রথম বই উদ্বোধনের প্রধান অতিথি থেকে শুরু করে কতকিছু এখন জীবন্ত হয়ে উঠছে।”
ফারুক সুমন লিখেছেন, “অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক স্যার আর নেই। গভীর শোক। বিনম্র শ্রদ্ধা।”
রাব্বি হোসাইন লিখেছেন, “মারা গেছেন আবুল কাসেম ফজলুল হক স্যার। আমি তখন পত্রিকার সাংবাদিক। স্যারের বাসায় গিয়েছিলাম ইন্টারভিউ আনতে। তিনি নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চিন্তা ও তত্ত্বের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর রচনা স্বদেশভাবনা ও রাজনৈতিক চিন্তায় ঋদ্ধ। প্রগতিপ্রয়াসী মন নিয়ে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে মত প্রকাশ করেন।”
সালাম সালেহ উদ্দিন লিখেছেন, “পরপারে চলে গেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক, বাংলা একাডেমির সভাপতি, আমার সরাসরি শিক্ষক আবুল কাসেম ফজলুল হক।”
উল্লেখ্য, আবুল কাসেম ফজলুল হকের জন্ম কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায়। তাঁর স্ত্রী ফরিদা প্রধান। তাঁর দুই সন্তানের মধ্যে মেয়ে শুচিতা শরমিন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছেলে ফয়সল আরেফিন দীপন জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ছিলেন। ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর দীপনকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে।
আবুল কাসেম ফজলুল হকের জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতি ছিলেন। ১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে মুক্তিসংগ্রাম (১৯৭২), কালের যাত্রার ধ্বনি (১৯৭৩), একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন (১৯৭৬), উনিশ শতকের মধ্যশ্রেণী ও বাংলা সাহিত্য (১৯৭৯), মানুষ ও তার পরিবেশ (১৯৮৮), সাহিত্যজিজ্ঞাসা: সাহিত্যসৃষ্টি ও সাহিত্যবিচার, জাতীয়তাবাদ, আন্তর্জাতিকতাবাদ, বিশ্বায়ন ও ভবিষ্যৎ, বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ও উত্তরকাল, আধুনিকতাবাদ ও জীবনানন্দের জীবনোৎকণ্ঠা এবং বার্ট্রান্ড রাসেলের রাজনৈতিক আদর্শ-এর বাংলা অনুবাদ। এছাড়া তিনি সংস্কৃতি গ্রন্থেরও রচয়িতা।
সম্পাদক হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর নির্বাচিত প্রবন্ধ, ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং স্বদেশচিন্তা-সহ একাধিক গ্রন্থ। পাশাপাশি তিনি ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেছেন।





