চাকরির জন্য তরুণদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না: সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:০২ অপরাহ্ন, ২৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৬:১৯ অপরাহ্ন, ২৯ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে, যেখানে তরুণদের চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না; বরং তারা নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিপিইর নতুন নির্দেশনা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটকে সরকার অস্বীকার করছে না। তবে সংকটকে কোনো অজুহাত হিসেবে ব্যবহার না করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে তা মোকাবিলা করা হবে।

তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে অর্থনীতিতে যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, সেটিও বিবেচনায় রেখেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাজেট নিয়ে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ সরকারের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা পালনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল দর্শন হলো—‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে উপস্থাপিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটটি শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি দেশের অর্থনীতিকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর একটি রূপকল্প। বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে সীমিত গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে উন্নয়ন ব্যয় ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি করে ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। সরকারি প্রকল্পে শুধু ব্যয়ের পরিমাণ নয়, বরং মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নে সরকারের তিন ধাপের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথম ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আর তৃতীয় ধাপে উৎপাদনশীল, উদ্ভাবননির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির ভিত্তি সুদৃঢ় করা হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেই প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নতি হবে এবং তরুণরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ঋণনির্ভর নয়, উৎপাদন ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়। দেশীয় শিল্পের বিকাশ, রুগ্ন শিল্পকারখানার পুনরুজ্জীবন এবং নতুন শিল্পাঞ্চলভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি রপ্তানিমুখী ও উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।