বাজেট নিয়ে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৫৫ অপরাহ্ন, ২৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৩:৩৫ অপরাহ্ন, ২৯ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

এবারের জাতীয় বাজেট হবে সুন্দর, স্বাভাবিক ও বাস্তবমুখী বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই বাজেটের মাধ্যমে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য অন্তত কিছুটা হলেও স্বস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে। সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের (বাজেট অধিবেশন) ১৮তম কার্যদিবসে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, এবারের বাজেটে ৬১টি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহারের ফলে বাজারে পণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি দাবি করেন, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম বাজেট ঘোষণার পর কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়েনি। এ কারণে তিনি প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব’ বাজেট হিসেবে অভিহিত করেন। দেশের সামনে থাকা বিভিন্ন সংকটকে সরকার অস্বীকার করছে না, আবার সেগুলোকে অজুহাত হিসেবেও ব্যবহার করতে চায় না। তার ভাষায়, অতীতে অর্থ পাচারের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং সরকার অতীতের বিতর্কে আটকে না থেকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে চায়।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিপিইর নতুন নির্দেশনা

সংসদীয় রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করেন, সংসদে অতীত নিয়ে আলোচনার চেয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি আলোচনা হওয়া উচিত, কারণ জনগণও সেটিই প্রত্যাশা করে। জনগণের ভোট ও সমর্থনের কারণেই সরকার সংসদে এসে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে বিপুল পরিমাণ বিদেশি ঋণের বোঝা দেশের ওপর চাপিয়ে গেছে, যার দায় জনগণকে দীর্ঘদিন বহন করতে হবে।

ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সরকার এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়, যেখানে ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধির পরিবর্তে উৎপাদন ও বিনিয়োগভিত্তিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে এমন পরিবেশ তৈরি করা হবে, যাতে দেশের তরুণরা চাকরির ওপর নির্ভরশীল না থেকে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।

আরও পড়ুন: কৃষিতে আরও বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান রিজভীর

চলমান বাজেট অধিবেশনে সরকার রাজস্ব বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় রাখাকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই নীতিগত অবস্থানেরই প্রতিফলন দেখা গেছে। বিশেষ করে নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা, উৎপাদনমুখী অর্থনীতির ওপর জোর এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা সরকারের আগামী অর্থবছরের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে।