প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিপিইর নতুন নির্দেশনা
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চতুর্থ শ্রেণি থেকে জাতীয় পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে মাঠের প্রাপ্যতা নিশ্চিতসহ একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। রোববার (২৮ জুন) অধিদপ্তরের সেকশন-২ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তের আলোকে দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ রয়েছে, সেগুলোকে খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় চাহিদা নিরূপণ করতে হবে। পাশাপাশি এ জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাজেট নিয়ে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ডিপিই জানিয়েছে, দেশের প্রায় ১১ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো খেলার মাঠ নেই। এসব বিদ্যালয় সরেজমিন পরিদর্শন করে মাঠ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে নতুন কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব পাঠানোর আগে সেখানে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিওন চেয়ারম্যানের সৌজন্য সাক্ষাৎ
যেসব বিদ্যালয়ের নিজস্ব মাঠ নেই, সেসব ক্ষেত্রে আশপাশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি মালিকানাধীন মাঠ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবহারের লক্ষ্যে সমঝোতা বা চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে মসজিদ, মন্দির, খালি জায়গা, পতিত জমি কিংবা অন্য কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাঠ থাকলে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় সেগুলো ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
যেসব এলাকায় কোনোভাবেই মাঠের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়, সেখানে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে দাবা, ক্যারামসহ বিভিন্ন ইনডোর গেমসের সরঞ্জাম সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিদিন পাঠদান শেষে এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বিদ্যালয়ের মাঠ শিশুদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে পূর্ণাঙ্গ অগ্রগতি প্রতিবেদন দ্রুত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, জাতীয় পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক বিকাশ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ভিত্তিক খেলাধুলার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে এবং শিশুদের স্বাস্থ্যকর বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।





