ভূরাজনীতির নতুন ত্রিমাত্রিক সমীকরণ

ঢাকা-ওয়াশিংটন-বেইজিং-আঙ্কারা অক্ষ এবং দিল্লির কৌশলগত বাধ্যবাধকতা

Any Akter
শেখ এমদাদুল হক মিলন
প্রকাশিত: ৪:৩৩ অপরাহ্ন, ২৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৪:৩৩ অপরাহ্ন, ২৭ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বরাজনীতিতে ভূকৌশলগত অবস্থানের কারণে কোনো রাষ্ট্র রাতারাতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, তার জীবন্ত উদাহরণ আজকের বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের জুনে এসে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক মানচিত্রে এক অভূতপূর্ব রূপান্তর দৃশ্যমান। একদিকে নির্বাচিত নতুন সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন ও মালয়েশিয়া সফর, অন্যদিকে আমেরিকার সাথে গভীর বাণিজ্যিক ও সামরিক অংশীদারিত্ব, এবং একই সাথে তুরস্কের সাথে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির অভাবনীয় বিকাশ—সব মিলিয়ে ঢাকা এখন বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর এক মহাপরীক্ষাগার। ঢাকার এই বহুমাত্রিক ও স্বাধীন কূটনীতি একদিকে যেমন বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, অন্যদিকে তা নিকট প্রতিবেশী ভারতের নীতিনির্ধারকদের ওপর তৈরি করেছে এক দীর্ঘমেয়াদি ভূকৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ, যা দিল্লির আঞ্চলিক হিসাব-নিকাশকে এক জটিল অন্ধকারে নিমজ্জিত করছে।

১. ঢাকার বহুমাত্রিক কূটনীতি: গভীর ভূ-অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সমীকরণ

আরও পড়ুন: দলীয় আনুগত্য বনাম রাষ্ট্রের স্বার্থ: অযোগ্য নিয়োগে প্রশাসনের সংকট

ঐতিহাসিক "সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয় এবং সবার আগ বাংলাদেশ" নীতিকে একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতায় "বাংলাদেশ ফার্স্ট" নীতিতে রূপান্তর করেছে ঢাকা। বিগত মাসগুলোতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে যে তিনটি প্রধান অক্ষ তৈরি হয়েছে, তা গভীর ভূ-অর্থনৈতিক ও সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন:

মার্কিন অক্ষ ও রেগুলেটরি হেজিমনি: ২০২৬ সালের শুরুতে আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি কেবল শুল্ক ছাড়ের বিষয় নয়; এটি একটি বড় ধরনের ভূ-অর্থনৈতিক চাল। মার্কিন তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত তৈরি পোশাকে ১৯ শতাংশ শুল্ক ছাড় এবং নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা ঢাকাকে ওয়াশিংটনের অত্যন্ত কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। তবে এই চুক্তির আড়ালে থাকা কৌশলগত শর্ত বা অ-বাজার অর্থনীতির (নন-মার্কেট ইকোনমি) সাথে বাণিজ্যের বিধিনিষেধ ঢাকাকে মার্কিন রেগুলেটরি স্ট্যান্ডার্ডের ভেতর বেঁধে ফেলছে, যা চীনের ওপর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নির্ভরতাকে ভারসাম্যপূর্ণ করতে সাহায্য করছে। পাশাপাশি সামরিক খাতে 'ব্ল্যাক হক' হেলিকপ্টার অন্তর্ভুক্তি এবং লজিস্টিক চুক্তির দিকে অগ্রগতি দুই দেশের গভীর নিরাপত্তা সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।

আরও পড়ুন: দুর্নীতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও সুশাসনের সংকট: এলজিইডির অশুভ চক্র ভাঙার এখনই সময়

চীনা অক্ষ ও সর্বশেষ অর্জিত লিভারেজ: বেইজিং থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে চীনের সাথে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রায় ১৭টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। চট্টগ্রামে বিশেষ চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল ও মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ঢাকাকে চীনের 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' (BRI) এবং 'গ্লোবাল Desenvolvimento Initiative' (GDI)-এর সাথে আরও শক্তভাবে যুক্ত করেছে। তবে সবচেয়ে বড় ভূ-অর্থনৈতিক চমক এসেছে ডলার সংকট মোকাবিলায়। দুই দেশের মধ্যে একটি বড় অঙ্কের  'কারেন্সি সোয়াপ' (Currency Swap) বা নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা অনুমোদিত হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশ এখন সরাসরি 'ইউয়ানে' আমদানি দায় মেটাতে পারবে। পাশাপাশি চীনের কাছ থেকে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সহজ শর্তের সরাসরি 'বাজেট সহায়তা' এবং শতভাগ পণ্যে শূন্য-শুল্ক সুবিধা পাওয়ার ঘোষণা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

তুর্কি অক্ষ ও সামরিক স্বনির্ভরতা: চীন বা আমেরিকার বলয়ে সম্পূর্ণ বন্দি না হয়ে বাংলাদেশ তৃতীয় এক বিকল্প তৈরি করেছে আঙ্কারার সাথে। তুরস্কের বিখ্যাত 'বায়রাকতার টিবি-২' ড্রোন যৌথভাবে বাংলাদেশে উৎপাদনের চুক্তি এবং দূরপাল্লার 'সিপার' (SİPER) ও 'হিসার-ও প্লাস' বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজের আকাশসীমাকে এক অভেদ্য দুর্গে পরিণত করছে। এটি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষানীতিকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের (Technology Transfer) মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন দিচ্ছে।

২. দিল্লির কৌশলগত বাধ্যবাধকতা ও অন্ধকার ভবিষ্যৎ

দক্ষিণ এশিয়াকে দীর্ঘকাল নিজের একক প্রভাব বলয় বা "ব্যাকইয়ার্ড" ভাবা ভারতের জন্য বর্তমান প্রেক্ষাপটটি কেবল অস্বস্তিকর নয়, বরং তাদের আঞ্চলিক আধিপত্যের জন্য এক বড় ধাক্কা। দিল্লির নীতিনির্ধারকদের সামনে এখন এক দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অন্ধকার বা বাধ্যবাধকতা দৃশ্যমান:

'থ্রি-ফ্রন্ট' সামরিক ফাঁদ ও বিমান সক্ষমতার ভারসাম্য: বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জন্য চীনের আধুনিক ৪.৫ প্রজন্মের J-10CE ফাইটার জেট এবং দূরপাল্লার পিএল-১৫ (PL-15) ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়ের আলোচনার পাশাপাশি বেইজিংয়ের সাথে অত্যাধুনিক 'উইং লুং' (Wing Loong) সশস্ত্র ড্রোন’ ও সাবমেরিন বিধ্বংসী প্রযুক্তি যে সমান্তরাল কৌশলগত চুক্তি হয়েছে, তা ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেটের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দেবে। ভারতের সামরিক পরিকল্পনাবিদদের এতদিনের "টু-ফ্রন্ট ওয়ার" (পাকিস্তান ও চীন) কৌশল ভেঙে এখন পূর্ব সীমান্তকেও নতুন সামরিক সমীকরণে যুক্ত করতে হচ্ছে, যা ভারতের বিমান বাহিনীকে (IAF) তাদের সমগ্র পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের রাডার নজরদারি বলয় ও বিমান ঘাঁটিগুলোর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে পুনর্গঠন করতে বাধ্য করবে।

তিস্তা প্রকল্পে যৌথ কারিগরি কমিটি ও শিলিগুড়ি করিডোর আতঙ্ক: ভারত যখন তিস্তা প্রকল্পে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক কূটনীতি করছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশ ও চীন এই মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য একটি  'যৌথ কারিগরি কমিটি' গঠন করেছে। চীন এই প্রকল্পে শুধু অর্থায়নই নয়, নদী শাসন বিদ্যা (River Management Technology) সরাসরি হস্তান্তর করবে। ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় "সেভেন সিস্টার্স" রাজ্যগুলোকে যুক্ত করা মাত্র ২০ কিলোমিটার চওড়া সংকীর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা "চিকেনস নেক"-এর ঠিক পাশেই তিস্তা প্রকল্পে এবং বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে চীনা প্রযুক্তির এমন কৌশলগত উপস্থিতি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দিল্লিকে স্থায়ীভাবে মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক চাপে রাখার ক্ষমতা রাখে।

আঞ্চলিক একাধিপত্যের পতন:  ভারতের বর্ষীয়ান কূটনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় নতুন হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানো বা বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা সচল করার মতো দিল্লির সাম্প্রতিক "ড্যামেজ কন্ট্রোল" বা ক্ষতি পূরণের চেষ্টা প্রমাণ করে। ভারত বুঝতে পেরেছে যে, ঢাকাকে আর "বিগ ব্রাদার" সুলভ আচরণ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাদের "নেবারহুড ফার্স্ট" নীতি এখন সম্পূর্ণরূপে অকার্যকর এবং এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে।

৩. ঢাকার হাতে থাকা ভূরাজনৈতিক চাল ও ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণী কৌশল

বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ কোনো পরাশক্তির "দাবার ঘুঁটি" নয়, বরং নিজেই একজন দক্ষ "দাবার খেলোয়াড়"। ওয়াশিংটন, বেইজিং এবং আঙ্কারার সাথে এই বহুমাত্রিক সম্পর্ককে পুঁজি করে ঢাকার নতুন সরকারের হাতে আরও কিছু অত্যন্ত শক্তিশালী কৌশল রয়েছে, যা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে:

কৌশল ১: ট্রানজিটকে 'কৌশলগত লিভারেজ' হিসেবে ব্যবহার করা: ভারত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে যোগাযোগের জন্য বাংলাদেশের ভূমি ও বন্দর সুবিধা ব্যবহার করতে অত্যন্ত আগ্রহী। ঢাকার উচিত হবে ভারতের এই ভৌগোলিক বাধ্যবাধকতাকে (Geographical Vulnerability) দ্বিপাক্ষিক দরকষাকষির প্রধান অস্ত্র বানানো। ট্রানজিট বা কানেক্টিভিটি সুবিধার বিনিময়ে ভারতের কাছ থেকে তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়, সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যাকাণ্ড শূন্যে নামিয়ে আনা, পুশইন বন্ধ করা এবং বাণিজ্য ঘাটতি দূর করার মতো বাস্তব সুবিধা নিশ্চিত করা। কূটনৈতিক পরিভাষায় একে বলা হয় 'কন্ডিশনাল কানেক্টিভিটি' বা শর্তযুক্ত যোগাযোগব্যবস্থা।

কৌশল ২: 'হেজিং' (Hedging) ও মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট নীতি: কোনো একটি পরাশক্তির জোটে সরাসরি যুক্ত না হয়ে সবার সাথে সমদূরত্ব বজায় রাখার কৌশলগত নাম 'হেজিং'। আমেরিকার সাথে বাণিজ্য চুক্তিতে যে 'নন-মার্কেট ইকোনমি' শর্ত রয়েছে, ঢাকা সেটাকে বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যবহার করতে পারে। ওয়াশিংটনকে বোঝাতে হবে যে, বাংলাদেশ মার্কিন অর্থনৈতিক নিয়মকানুন মেনে চলছে, যার বিনিময়ে মার্কিন বিনিয়োগ আরও বাড়াতে হবে। আবার অন্যদিকে চীনের কাছ থেকে শুধু উচ্চ সুদের ঋণ নেওয়ার চেয়ে সরাসরি প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) এবং উৎপাদনমুখী যৌথ উদ্যোগে জোর দিতে হবে। এই দুই পরাশক্তির প্রতিযোগিতাকে নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রূপান্তর করাই হবে ঢাকার মূল চাল।

কৌশল ৩: মধ্যম শক্তির জোট এবং বহুমাত্রিক ব্লু-ইকোনমি: বঙ্গোপসাগরকে কোনো একক দেশের হ্রদ হতে না দিয়ে ঢাকাকে এখানে একটি 'বহুমুখী শক্তির ভারসাম্য' তৈরি করতে হবে। তুরস্কের কাছ থেকে সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোকে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রবন্দর, ব্লু-ইকোনমি এবং সমুদ্রের নিচে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ব্যাপকভাবে যুক্ত করতে হবে। এর ফলে বঙ্গোপসাগরে একটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক স্বার্থের বলয় তৈরি হবে, যা যেকোনো একক আঞ্চলিক পরাশক্তির সামরিক বা কৌশলগত আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নস্যাৎ করে দেবে।

কৌশল ৪: আসিয়ানের (ASEAN) মাধ্যমে আঞ্চলিক একীকরণ: মালয়েশিয়ার সাথে সম্পর্ক গভীর করার মাধ্যমে বাংলাদেশ 'রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ' (RCEP) এবং আসিয়ান (ASEAN)-এর 'সেক্টোরাল ডায়ালগ পার্টনার' হওয়ার যে সুযোগ তৈরি করেছে, তা দ্রুত লুফে নিতে হবে। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ওপর বাংলাদেশের ভূ-অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমাবে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান বাজারের সাথে ঢাকাকে যুক্ত করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের কূটনৈতিক দরকষাকষির ক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দেবে।

শেষ কথা

বাংলাদেশ আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। পরাশক্তিদের এই তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে ঢাকা এখন পর্যন্ত অত্যন্ত চতুর, পরিপক্ব ও বাস্তবসম্মত উপায়ে নিজেদের অবস্থানকে সুরক্ষিত রেখেছে। দিল্লির কৌশলগত বাধ্যবাধকতা মূলত তাদের নিজস্ব একতরফা আঞ্চলিক পররাষ্ট্রনীতিরই ফসল।

নবনির্বাচিত সরকারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—কোনো একক দেশের প্রতি অন্ধ আনুগত্য না দেখিয়ে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সবার ওপরে স্থান দেওয়া। আমেরিকার বাজার, চীনের অবকাঠামো ও নতুন আর্থিক উইন্ডো (কারেন্সি সোয়াপ ও বাজেট সহায়তা), এবং তুরস্কের আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—সবকিছুকেই বাংলাদেশ যদি নিজের জাতীয় স্বার্থে একটি সুসংহত বুনটে ধরে রাখতে পারে, তবে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ঢাকাই হবে আগামী দিনের মূল চালিকাশক্তি। দূরদর্শী, সাহসী এবং "বাংলাদেশ ফার্স্ট" নীতিই পারে এই আঞ্চলিক খেলায় ঢাকাকে চিরজয়ী করে রাখতে।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও  রাজনৈতিক বিশ্লেষক