লক্ষ্মীপুরে মা ও বোনের সঙ্গে খুন হলেন ঢাবি শিক্ষার্থী সায়মা

Sanchoy Biswas
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:২৫ অপরাহ্ন, ২৫ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১:২৬ অপরাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে মা ও দুই মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে এক সন্দেহভাজন যুবকও নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলার রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকার একটি বাসায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: জাতীয় কবি’র ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নিহতরা হলেন—শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। এ ঘটনায় আহত মেজো মেয়ে ইকরা আক্তারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে আহত অন্তর মজুমদার (২৮) নামে এক যুবক পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায়।

আরও পড়ুন: গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি, ঢাবির ৬২ শিক্ষক-গবেষককে সম্মাননা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহিনুর বেগমের আদি বাড়ি কুমিল্লায়। কয়েক বছর আগে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি গোডাউন রোড এলাকার ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। বৃহস্পতিবার সকালে দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। ঘটনার পর স্থানীয়রা এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেয়।

তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং এর পেছনে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, হাসপাতালে মোট পাঁচজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে মা ও দুই মেয়ে এবং গণপিটুনির শিকার এক যুবক মারা যান। আহত ইকরাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, “নিহত তিনজনের মরদেহ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আহত একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। গণপিটুনির শিকার সন্দেহভাজন যুবককেও চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল, পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে উত্তেজিত জনতার হামলায় পুলিশের ৬ থেকে ৭ জন সদস্য আহত হয়েছেন।”

ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এতে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।