গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি, ঢাবির ৬২ শিক্ষক-গবেষককে সম্মাননা

Sanchoy Biswas
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৩৯ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৮ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গবেষণা ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬২ জন শিক্ষক ও গবেষককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। গুগল স্কলার প্রোফাইলে ২ হাজার বা তদূর্ধ্ব সাইটেশন অর্জন করায় তাদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষক-গবেষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

সম্মাননাপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান, পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. গাউসিয়া ওয়াহিদুন্নেসা চৌধুরী এবং ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ।

আরও পড়ুন: ঢাবিতে জাতীয় কবি নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

অনুষ্ঠানে তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম সূচনা বক্তব্য দেন এবং গবেষণার ক্ষেত্রে সাইটেশনের গুরুত্ব নিয়ে পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনা করেন। এতে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউট ও সেন্টারের পরিচালক, প্রক্টর এবং সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষক-গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষক ও গবেষকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণাধর্মী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানকে সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করতে সম্মাননাপ্রাপ্ত গবেষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু সরকারি অর্থায়নের ওপর নির্ভর করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই ও শিল্পখাতের সহযোগিতা প্রয়োজন।

উপাচার্য জানান, শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ বছর মেয়াদি একাডেমিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। গবেষণার জন্য ১ হাজার কোটি টাকা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আরও ১ হাজার কোটি টাকার ফান্ড গঠনের লক্ষ্যে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক উন্নয়ন ও অ্যালামনাই নেটওয়ার্কিং জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। ‘ল্যাব টু ল্যাব’ এবং ‘রিসার্চার টু রিসার্চার’ কার্যক্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক ও গবেষকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মাননাপ্রাপ্ত ৬২ শিক্ষক-গবেষকের মধ্যে রয়েছেন—তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম; রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু বিন হাসান সুসান, অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, অধ্যাপক ড. মো. এনামুল হক, অধ্যাপক ড. মো. মমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব; ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফেরদৌস; বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাদির এবং অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শরীফ হোসেন।

এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের অধ্যাপক ড. সুবর্ণ বড়ুয়া; ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ রাকিবুল হক; অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান, অধ্যাপক ড. রুমানা হক ও অধ্যাপক ড. এম নিয়াজ আসাদ উল্লাহ; পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিললাল হোসেন ও অধ্যাপক ড. মো. রবিউল হক এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান সম্মাননা পেয়েছেন।

সম্মাননা পেয়েছেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন; প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. গাউসিয়া ওয়াহিদুন্নেসা চৌধুরী; প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ইউজিসি অধ্যাপক ড. জেবা ইসলাম সেরাজ, অধ্যাপক ড. এ এইচ এম নুরুন নবী, অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন ও অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর; অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুনাওয়ার সুলতানা; মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনিরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান ও অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুল্লাহ আল-মামুন।

এ ছাড়া জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ ও অধ্যাপক ড. আবুল বাশার মীর মোহাম্মদ খাদেমুল ইসলাম; পাবলিক হেলথ বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. রেজাউল ইসলাম; ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান, ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রশীদ, অধ্যাপক ড. মো. শাহ এমরান ও অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ; ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রহমান; ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ ও অধ্যাপক ড. মো. আজিজ হাসান; সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কাউসার আহাম্মদ এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাইনুল হোসেনও রয়েছেন তালিকায়।

ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, অধ্যাপক ড. পাপিয়া হক, অধ্যাপক ড. মিঠুন সরকার, অধ্যাপক ড. আবুল খায়ের মল্লিক, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নুরুজ্জামান খাঁন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. তাছলিম উর রশিদ; কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু ও অধ্যাপক ড. চৌধুরী ফারহান আহমেদ এবং নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. অনিমেষ পালও সম্মাননা পেয়েছেন।

চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগের অধ্যাপক এ এ এম কাওসার হাসান, সিরামিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দেবাশীষ পাল ও অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ, গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের অধ্যাপক রেজা আসাদ আল হুদা অনুপম, শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ মনির উদ্দিন এবং অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল আলী সম্মাননাপ্রাপ্ত হয়েছেন।

এ ছাড়া পরিসংখ্যান গবেষণা ও শিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সফিকুর রহমান এবং সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্সেসের ড. গাজী নুরুন নাহার সুলতানা, ড. মো. লতিফুল বারী ও ড. সমীরন ভট্টাচার্য্য সম্মাননা পেয়েছেন।