৫ বছর পর রয়েল রিসোর্টের ‘৫০১ নম্বর কক্ষ’ প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মামুনুল হক

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ন, ২০ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৬:০৪ অপরাহ্ন, ২০ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পাঁচ বছর পর নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের বহুল আলোচিত ‘৫০১ নম্বর কক্ষ’ সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি দাবি করেছেন, ২০২১ সালের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও চরিত্রহননের চেষ্টা করা হয়েছিল।

শনিবার (২০ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ বিষয়ে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: ফাসিস্টের শিকড় সমূলে উৎপাটন করতে না পারলে তা ফিরে আসার আশঙ্কা রিজভীর

মামুনুল হক জানান, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল তিনি তার স্ত্রী জান্নাত আরাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন। সে সময় পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক ও অন্যরা সেখানে উপস্থিত হন। তার দাবি, রিসোর্টের কক্ষ ঘিরে ফেলার পর দরজা খুললে একাধিক ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশ করেন এবং ঘটনাটি বিভিন্ন মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময় তাকে ও তার স্ত্রীকে হেনস্তার শিকার হতে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি তার স্ত্রীকে ওয়াশরুমে অবস্থান করতে বলেন। পরে নারী পুলিশ সদস্যরাও সেখানে প্রবেশ করেন বলে তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুন: যুবদলের নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ যুবদলের ফুলেল শুভেচ্ছা

ফেসবুক পোস্টে মামুনুল হক উল্লেখ করেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি ও জান্নাত আরা নিজেদের বৈবাহিক সম্পর্কের কথা স্পষ্টভাবে জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রচারিত হয়েছিল।

জান্নাত আরার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, জান্নাত আরা আগে তার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিলেন। পরবর্তীতে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হলে জান্নাত আরার সঙ্গে তার পরিচয় ও যোগাযোগের সূত্র ধরে বিয়ে সম্পন্ন হয়। তিনি দাবি করেন, এটি ছিল শরিয়তসম্মত ইসলামি বিয়ে।

‘মুতা বিয়ে’ বা চুক্তিভিত্তিক বিয়ের অভিযোগের জবাবে মামুনুল হক বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রচারিত এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, জান্নাত আরার সঙ্গে তার বিয়ে ছিল স্থায়ী ও বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক।

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল। তবে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন কারণে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে মামুনুল হক বলেন, রিসোর্টে অবস্থানকালে তার কক্ষে প্রবেশ, ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং ফোনালাপ ফাঁস করার মতো ঘটনাগুলোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় মহল তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিল। তবে তিনি কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি বলেও দাবি করেন।

দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে মামুনুল হক বলেন, তার বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রচারণা ছিল বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ। তিনি এটিকে চরিত্রহননের প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আদালতেও হয়রানির শিকার হওয়ার দাবি করেন।

পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘৫০১’ তার কাছে কোনো নেতিবাচক স্মৃতি নয়; বরং এটি তার ভাষায় একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের প্রতীক। ভবিষ্যতেও তিনি এ প্রসঙ্গ তুলে ধরবেন বলে উল্লেখ করেন।