চলতি মৌসুমে ৩৩ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা

রায়পুরে নারিকেলের বাম্পার ফলন

Sadek Ali
আব্দুল্লাহ আল মামুন ,রায়পুর
প্রকাশিত: ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, ১৮ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১২:০৮ অপরাহ্ন, ১৮ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৩৩ কোটি টাকার নারিকেল উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

রায়পুরের উৎপাদিত নারিকেল সুস্বাদু ও তেলের গুণগত মান ভালো হওয়ায় এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ সরবরাহ হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, কুমিল্লা, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ , বগুড়া,দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

আরও পড়ুন: ভারতে পাচারের সময় ২টি মিনি পাওয়ার টিলার জব্দ, সিজারমূল্য ৪ লাখ টাকা

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এ অঞ্চলে নারিকেল ভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে উঠলে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি গতিশীলতা পাবে এ অঞ্চলের অর্থনীতি। এ জেলায় নারিকেল ভিত্তিক শিল্প-কারখানা স্থাপিত  হলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে । বাড়ির আঙিনা, পতিত জমি ও কৃষি জমির পাশে নারিকেলের গাছ লাগিয়ে বেশ লাভবান হয়েছেন রায়পুরের চাষিরা।  এ অঞ্চলে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নারিকেলের চাষ ও ব্যবসা ।

রায়পুর কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এখানে  প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে নারিকেলের আবাদ করা হয়েছে, প্রতি হেক্টর জমিতে ৪. ২ টন নারিকেল উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে । কৃষি অফিস সূত্রে আরো জানা যায়, এবছর প্রায় ১ হাজার ৩০৬ টন নারিকেল উৎপাদিত হবে। যার বর্তমান বাজারজাত মূল্য প্রায় ৩৩ কোটি  ৫১ লাখ ৪০ হাজার টাকারও বেশি। বর্তমান মৌসুমে প্রতি জোড়া নারিকেল বিক্রি হচ্ছে আকারভেদে (ছোট জোড়া ১০০ থেকে ১৫০  টাকা এবং বড় জোড়া ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় নারিকেলের প্রতি জোড়া বিক্রি হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন: ১১ বছরের শিশু ধর্ষণ, ফার্মেসি ব্যবসায়ী আটক

রায়পুর উপজেলায় সবচেয়ে বড় হাট বসে রায়পুর পৌর শহর, রায়পুর উপজেলা হায়দারগঞ্জ বাজার, মোল্লার হাট বাজার, মিতালী বাজার, মীরগঞ্জ ও কাফিলাতলী বাজার। বেচা-কেনা ও ছোবড়া বের করার কাজে প্রায় দুই শতাধিক নারী- পুরুষের  কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।

রায়পুর উপজেলা  মিতালী বাজার ও হায়দরগন্জ বাজারের নারিকেল ব্যবসায়ী   বিল্লাল হোসেন ও আনোয়ার মিয়া বলেন, আমরা অনেক বছর থেকে নারিকেলের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নারিকেলের উৎপাদন ভালো হয়েছে। বাজারে চাহিদা থাকায় চাষিরা ভালো দাম পাবেন । এখানকার উৎপাদিত নারিকেলের গুণগত মান অনেক ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলায় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং পাশাপাশি তেল কোম্পানিদেরও এখানকার নারিকেল সংগ্রহ করার আগ্রহ অনেক বেশি পরিলক্ষিত করা গিয়েছে ।

কেরোয়া গ্রামের নারিকেল চাষি মনোহার  বলেন, এ অঞ্চলে নারিকেল ভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে উঠলে চাষিরা যেমন ভালো দাম পাবেন  তেমনি লাভবান হবেন আমাদের মত ব্যবসায়ীরাও।

চরপাতা গ্রামের নারিকেল চাষি আরিফ, ইসমাঈল  তারা জানান, তাদের  বাড়ির চারপাশে এবং ফসলি জমির চার পাশে, পুকুরের চারপাশে তারা নারিকেলের বাগান করে এখন বেশ লাভবান হয়েছেন এবং  বিগত বছরের ন্যায় চলতি বছরে তারা নারিকেল বিক্রি করে হাজার হাজার টাকা আয় করবেন। তাদের কাছে নারিকেলের ভালো ফলন ও পরিচর্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নারিকেল গাছের তেমন যত্ন নেওয়া লাগে না, তবে গাছ লাগানোর সময়কাল হলো বর্ষার শুরতে বা বর্ষার শেষে নারিকেল গাছে পরিমাপ অনুযায়ী ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি, জিপসাম, বোরন ইত্যাদি সার প্রয়োগ করলে নারিকেলের ফলন ভালো হয়। একটি  উন্নত জাতের ভালো নারিকেল গাছে প্রায় - ৪০/৫০ বছর ধরে  নারিকেল দিয়ে থাকে। 

রায়পুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা  মো: মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘এখানকার মাটি  ও পরিবেশ নারিকেল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ অঞ্চলে নারিকেলের উৎপাদন ভালো হয়েছে। ভালো উৎপাদন হওয়ায় সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। আশা করা যাচ্ছে  বিগত বছরের তুলনায় এবছর  নারিকেল উৎপাদন অনেক বেশি হবে।