ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা, বিমান চলাচল, শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, ২৫ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১২:০১ অপরাহ্ন, ২৫ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও একটি তীব্র ভূকম্পন অনুভূত হয়।

আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে ১০ হাজারের বেশি প্রাণহানির আশঙ্কা

ভূমিকম্পের পরপরই রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল, শিক্ষা কার্যক্রম এবং গণপরিবহন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে মাইকেতিয়ায় অবস্থিত সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত ৩২, আহত ৭ শতাধিক

দেশটির সংবাদমাধ্যম লা পাতিয়ার বরাত দিয়ে জানা গেছে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মেট্রো ও রেলসেবা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি কার্যক্রমও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রদ্রিগেজ জানান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফকে জরুরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পুরো কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন বলিভারিয়ান ন্যাশনাল গার্ডের কমান্ডার জেনারেল।

ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো বলেছেন, বহু মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে ইউএসজিএসের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই ভূমিকম্পে ১০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং এক লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ৩০ শতাংশ। এছাড়া ভূমিকম্পের ফলে ভূমিধস এবং মাটি তরলীকরণের মতো বড় ধরনের ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ এখনো হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করেনি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে আরও সময় লাগতে পারে।