জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪৪ অপরাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২:০৩ অপরাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস কোনো দল বা গোষ্ঠীর একক বয়ানে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে জাতীয় ইতিহাস চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সেখানে কোনো ধরনের দলীয় ইতিহাস থাকা উচিত নয়।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর গণভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

আরও পড়ুন: গুলশানে রেস্তোরাঁয় বৈঠক, আওয়ামী লীগের ৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

তিনি বলেন, জাদুঘরের বর্তমান প্রদর্শনীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসের কিছু অংশ তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। পরিচিত কিছু ব্যক্তি ও ঘটনার উপস্থিতি বারবার এসেছে। তবে আন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও অঞ্চলের মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়টি যথেষ্টভাবে উঠে আসেনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, সময়ের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো সাজিয়ে আরও বিস্তৃতভাবে ইতিহাস তুলে ধরা প্রয়োজন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ভূমিকার পাশাপাশি ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলার আন্দোলনের ঘটনাও আলাদাভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে। এসব অঞ্চলে নির্যাতন, প্রতিরোধ ও মানুষের অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: পেটাও না কেন, মারো না কেন ওদের

জুলাই জাদুঘরে দলীয় ইতিহাস দেখতে চান না জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি প্রকৃত ইতিহাস চর্চার স্থান এবং জাতীয় ইতিহাসের একটি কেন্দ্র হওয়া উচিত। অতীতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়েও দলীয়করণের অভিযোগ ছিল। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে পাঠ্যপুস্তক ও ইতিহাসের বয়ান পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রেও যেন একই পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস এমনভাবে সংরক্ষণ ও উপস্থাপন করতে হবে, যাতে দেশের মানুষ সেটিকে নিজেদের ইতিহাস হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে প্রকৃত ইতিহাস পরিবর্তিত হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

জাদুঘরের বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর চাপ সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত জনবল নেই। প্রায় ২০০ জন জনবল প্রয়োজন হলেও বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ জন কাজ করছেন। স্বল্প জনবল দিয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে জাদুঘরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

জাদুঘরে দর্শনার্থীদের বিভিন্ন নিদর্শন ও ইতিহাস সম্পর্কে সঠিকভাবে জানাতে প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর পরিবর্তে বিশেষজ্ঞ এবং জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করেন এমন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার দাবি জানান তিনি।

জাদুঘর পরিচালনায় স্বায়ত্তশাসিত কাঠামো গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় আইন ও কাঠামো তৈরিরও আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থী, গবেষক, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন উল্লেখ করে শুরু থেকে জাদুঘর প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।

জাদুঘরে শহীদ আবু সাঈদের উপস্থিতি নিয়েও কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আবু সাঈদ গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান প্রতীক। বর্তমানে প্রদর্শনীতে তার ছবি না থাকার বিষয়টি জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবু সাঈদকে নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেটি জাদুঘরে প্রদর্শন করা হবে।

শহীদদের আরও বেশি স্মৃতিচিহ্ন প্রদর্শনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। শহীদদের পরিবারের কাছ থেকে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বিপুলসংখ্যক স্মৃতিচিহ্ন সংগ্রহ করেছে জানিয়ে সেগুলোর আরও একটি অংশ শৈল্পিকভাবে প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

গণভবনের পুরো ১৭ একর জায়গাকে কাজে লাগিয়ে জাদুঘরের পরিসর আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। বিভিন্ন ঘটনা, স্মৃতি ও নিদর্শন আরও বিস্তৃতভাবে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসে সীমান্ত হত্যা, ভারতবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতি সরিয়ে ফেলার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এসব ঘটনাকেও ইতিহাসের অংশ হিসেবে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের দাবি জানান নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের প্রতিরোধ ও বিজয়ের ইতিহাসও জাদুঘরে তুলে ধরতে হবে। কোনো ঘটনা বাদ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তৈরি করা সম্ভব নয়।