প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের লক্ষ্য: হাবিবুর রশিদ হাবিব

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৫১ অপরাহ্ন, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৮:৫৬ অপরাহ্ন, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

‘প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের লক্ষ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ, যোগাযোগ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার গ্রিন মডেল টাউনের পার্ক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সায়েন্স অ্যান্ড ইনোভেশন ফেয়ারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় অগ্নিকাণ্ডে দোকানঘর ভষ্মিভুত

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মহসিন মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মাহবুব উদ্দিন খোকন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদ, প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মতিন পাটোয়ারীসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আমূল বদলে দিয়েছে। আধুনিক মানবসভ্যতার অগ্রগতি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন।

আরও পড়ুন: কোটবাড়ি থেকে নিখোঁজ অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার, সন্দেহে আটক ১

তিনি বলেন, বিজ্ঞান হলো প্রকৃতির বিভিন্ন রহস্য অনুসন্ধান ও জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া। আর উদ্ভাবন হলো সেই জ্ঞান, চিন্তা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু তৈরি করা কিংবা বিদ্যমান সমস্যার আরও কার্যকর সমাধান বের করা। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সমন্বয় আমাদের ভবিষ্যৎকে আরও আধুনিক ও সম্ভাবনাময় করে তুলতে পারে।

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রভাব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেট, স্মার্টফোন ও আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির কারণে আজ পৃথিবী মানুষের হাতের মুঠোয়। মুহূর্তের মধ্যেই বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে। আধুনিক যানবাহন ও পরিবহন ব্যবস্থার উদ্ভাবন যাতায়াতকে আরও দ্রুত ও সহজ করেছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, উন্নত চিকিৎসাপদ্ধতি, অস্ত্রোপচার প্রযুক্তি ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মাধ্যমে অনেক জটিল রোগের চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে।

শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগকে আরও বিস্তৃত করেছে। অনলাইন শিক্ষা, ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী ও বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের জ্ঞান অর্জন করতে পারছে। কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার কাজের গতি, দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে।

পার্ক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের পৃথিবীর নেতৃত্ব দেবে এমন প্রজন্ম গড়ে তুলতে শুধু প্রচলিত জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি প্রয়োজন সৃজনশীল চিন্তা, গবেষণার মানসিকতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং নতুন কিছু উদ্ভাবনের আগ্রহ।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু বইয়ের জ্ঞান অর্জন করলে হবে না। তাদের জানতে হবে কীভাবে একটি সমস্যা চিহ্নিত করতে হয়, কীভাবে প্রশ্ন করতে হয় এবং কীভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সেই সমস্যার সমাধান করা যায়।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি ছোট ধারণা থেকেই একদিন বড় কোনো উদ্ভাবনের জন্ম হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের ‘আমি পারব, আমি নতুন কিছু তৈরি করব, আমি আমার দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করব’—এই আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে যেতে হবে।

প্রযুক্তির অপব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যেমন অসংখ্য সুফল রয়েছে, তেমনি এর অপব্যবহারও নানা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই প্রযুক্তিকে দায়িত্বশীল, নিরাপদ ও মানবকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী নিশ্চিত করতে হবে।

পরিশেষে তিনি বলেন, বিজ্ঞান জ্ঞান দেয়, প্রযুক্তি সেই জ্ঞানকে কাজে লাগায় এবং উদ্ভাবন নতুন সম্ভাবনার পথ দেখায়। আজকের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ ও উদ্ভাবক। পার্ক ইন্টারন্যাশনাল-এর মতো শিক্ষাঙ্গনে বিজ্ঞানমনস্কতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তার চর্চা যত বেশি হবে, ততই একটি জ্ঞানভিত্তিক, আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের লক্ষ্য। বিজ্ঞানকে জানি, প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করি এবং উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে ভবিষ্যৎকে গড়ে তুলি।’