দুর্ঘটনা ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

নিষেধাজ্ঞার পর আরিচা মহাসড়কে নিন্ত্রণহীনভাবে অটোরিকশা চলাচল

Shahrier Islam Pallab
মোঃরফিকুল ইসলাম জিল্লু, সাভার আশুলিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:২২ অপরাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:০৩ অপরাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা আরিচা মহাসড়ক থেকে শুরু করে আশেপাশে মহাসড়কে তিন চাকার অটোরিকশা চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে চলছে এই মরণব্যাধি অটো রিক্সার দাপট। সাভার ও আশুলিয়ার মহাসড়ক দখল করে রেখেছে এই অটো রিক্সা। দিন দিন বেড়েই চলেছে অটো রিক্সার সংখ্যা ও দুর্ঘটনা। মহাসড়কের যানজট ও দুর্ঘটনার জন্য এই অটো রিক্সাকে দায়ী করছেন পথচারীরা।

সাভারের সড়ক মহাসড় বিভিন্ন অলিগলিতে   দিন দিন বেড়েই চলেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে সড়কে চলাচল, উল্টো পথে চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলা এবং একাধিক অটোরিকশার প্রতিযোগিতা মূলক চলাচলের কারণে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা। এ পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সাভারের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। নির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণ না থাকায় প্রতিনিয়তই  দেখা যায় যাত্রী  চারকদের সাথে  তর্ক-বিতর্ক  হাতা হাতির মত ঘটনা ঘটে। 

আরও পড়ুন: ‎করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্রের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট

স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে সাভার বাসস্ট্যান্ড, রেডিও কলোনি, সাভার বাজার,রাজাশন  রোড,  থানা রোড,গেন্ডা স্ট্যান্ড,হেমায়েতপুর,বলিয়াপুর,আমিনবাজার,নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বিভিন্ন সংযোগস্থলসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অটোরিকশার চাপ বেড়ে যায়। অনেক চালক ট্রাফিক আইন না মেনে সড়কের মাঝখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করান। ফলে পেছনে থাকা যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, আমরা প্রতিদিন সকাল-বিকেলে দোকানে আসতে গিয়ে যানজটে আটকে থাকতে হয় । অটোরিকশা ভাড়া নির্ধারণ  ও নিয়ন্ত্রণে না থাকলে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ হবে। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান দরকার।

আরও পড়ুন: কোটচাঁদপুরে প্রেসক্লাবের দুই প্রয়াত সাংবাদিকের স্মরণে দোয়া ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

সাভারের এক শিক্ষার্থী জানান, পরীক্ষা বা ক্লাসের সময় বাসা থেকে অনেক আগে বের হলেও যানজটের কারণে সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে ও ক্লাসে সময়মত পৌঁছানো  কঠিন হয়ে পড়ে । সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় ব্যস্ত সময়ে।

একজন চাকরিজীবী বলেন, অটোরিকশাগুলো মহাসড়কের সংযুক্ত সড়কগুলোর মাথায় অথবা    দুই-তিন লেনের রাস্তায় অনেকগুলো একসাথে আটকে দাঁড়িয়ে থাকে। চালকদের মধ্যে কে আগে যাত্রী নেবে—এ নিয়ে প্রতিযোগিতা চলে। এতে যানজট যেমন হয়, তেমনি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে।

স্থানীয় এক পথচারীর ভাষ্য, শুধু মহাসড়ক নয়, অলিগলিতেও এখন অটোরিকশার সংখ্যা অনেক বেশি। অনেক চালক বেপরোয়া গতিতে চলাচল করতে গিয়ে অ্যাক্সিডেন্টের বা দুর্ঘটনা শিকার হচ্ছে । পথচারীদের রাস্তা পার হতে গিয়েও আতঙ্কে থাকতে হয়।

সাভারের সচেতন নাগরিকদের মতে, অটোরিকশা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া সমস্যার সমাধান নয়। কারণ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে এসব যানবাহন। তবে নির্দিষ্ট রুট, নির্ধারিত স্ট্যান্ড, চালকদের প্রশিক্ষণ, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র নিশ্চিত করা জরুরি।

একজন স্থানীয় পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বলেন, অটোরিকশার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট স্থানে যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা করা গেলে যানজট অনেকটাই কমানো সম্ভব। কোন রোড, উল্টো পথে চলাচল  বা ভাড়া নির্ধারণ করে দিতে হবে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সাভারের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ ও অনিবন্ধিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামার স্থান নির্ধারণ এবং চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে বাধ্য করার উদ্যোগ নিতে হবে।

সাভারবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে অটোরিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে সাভারের ব্যস্ত সড়কগুলোতে যান চলাচল আরও নিরাপদ ও স্বাভাবিক হবে।