রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী ফখরুল, ১১ দলের অলি
বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা নিয়ে নয়া হিসাব-নিকাশ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক উত্তাপ
আরও পড়ুন: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে চালু হচ্ছে নতুন ট্রেন
বিএনপির দুই ফরম সংগ্রহে বাড়ছে জল্পনা
২০ আগস্ট ভোট গ্রহণ
আরও পড়ুন: হাসিনা কাউকে বিশ্বাস করতেন না, এনটিএমসির মাধ্যমে ফোনকল নজরদারি করতেন: প্রসিকিউশন
দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ ও হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অন্তর্বর্তীকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলেও, বঙ্গভবনের স্থায়ী ও নতুন পরবর্তী বাসিন্দা কে হচ্ছেন তা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে চলছে নানা জল্পনাকল্পনা। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও গতকাল রবিবার নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে দলটি। এর পরই সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশ।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনেকটা চূড়ান্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত আলোচনায় থাকা কোনো নাম, নাকি একেবারে অপ্রত্যাশিত কাউকে বঙ্গভবনের জন্য বেছে নেয় বিএনপি, সেটিই নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপর। তবে দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বিএনপির পক্ষে একটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। অন্যটি সংগ্রহ করেছেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি। তবে এই দুটি ফরম কার নামে জমা দেওয়া হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। আর এখানেই তৈরি হয়েছে মূল রাজনৈতিক কৌতূহল। দুটি ফরম কি শুধু আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি, নাকি এর আড়ালে রয়েছে শেষ মুহূর্তের কৌশল? বিএনপির অভ্যন্তরীণ আলোচনা এবং গত কয়েক সপ্তাহের রাজনৈতিক সমীকরণ বিশ্লেষণ করলে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম সামনে আসে। তাদের মধ্যে বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল মঈন খান এবং স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তবে প্রকাশ্য সূত্রে গত জুলাইয়ের আলোচনায় মির্জা ফখরুল, মঈন খান ছাড়াও খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খানের নামও এসেছে। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে। ফলে বিএনপির বিপুল সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রেক্ষাপটে দল যাকে মনোনয়ন দেবেন, বাস্তবে তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। এ কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটি বিএনপির জন্য শুধু একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি সরকারের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভারসাম্য, দলের নেতৃত্বের কাঠামো এবং রাষ্ট্র পরিচালনার রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গেও সম্পর্কিত। মির্জা ফখরুলকে বঙ্গভবনে পাঠানো হলে দলের মহাসচিব পদে পরিবর্তন আসবে। মঈন খানকে বেছে নিলে দলের একজন অভিজ্ঞ নীতিনির্ধারক রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে যাবেন। আর হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে স্থায়ী রাষ্ট্রপতি করা হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার বর্তমান ভূমিকারই ধারাবাহিকতা তৈরি হবে। তবে এই তিন নামের বাইরে শেষ মুহূর্তে কোনো নাম সামনে এলে সেটিই হতে পারে সবচেয়ে বড় চমক।
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এটা নিশ্চিত। যদিও এ বিষয়ে এখনো দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। গতকাল রবিবার বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। এদিকে বর্ষীয়ান রাজনীতিক কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। তাকে এই পদে মনোনয়ন দেওয়ার কারণ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা দেশের কল্যাণের জন্য আমাদের বিবেচনায় সর্বোত্তম ব্যক্তিটাকে দেশের প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দিয়েছি। আপনারা দোয়া করবেন, আমাদের প্রত্যেকটি কাজ যেন জাতির জন্য হয়, জাতির কল্যাণের জন্য হয়। আমরা এ ব্যাপারে ইনশাআল্লাহ কোনো আপস করব না। আমরা সবার সহযোগিতা চাই।’ গতকাল দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে কর্নেল অলির নাম ঘোষণা করার পর তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের জন্য দায়িত্ব হিসেবে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা মনে করি, সর্বক্ষেত্রে রাজনীতি স্বচ্ছ হওয়া উচিত, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হওয়া উচিত। তাহলে গণতন্ত্রের গতি এবং সুস্বাস্থ্য ফিরে আসবে।’
১১ দলীয় ঐক্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, আমি সমগ্র জাতির কাছে কৃতজ্ঞ। ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আমাদের সব নেতাকর্মীদের কাছে কৃতজ্ঞ। আপনাদের মাধ্যমে আমরা জাতিকে বলতে চাই, আমরা আমাদের জায়গা থেকে এই জাতির সঙ্গে কখনো বেইমানি করব না। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এর আগে আলোচনা হয়েছিল, যাতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা যায়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরিতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কীভাবে বাড়ানো যায়, এসব বিষয় নিয়েও সংসদে প্রস্তাব এসেছিল।’‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল নির্বাচন শেষে নতুনভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধান অনুসারে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হবে, এমনটাই আমরা আশা করেছিলাম,’ যোগ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার সংস্কার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেনি। যারা জুলাই-পরবর্তী সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়েছেন তাদের নিয়ে কার্যকরভাবে অধিবেশনও ডাকেনি সরকার। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকেও দলীয়করণ করা হচ্ছে। অথচ গত ১৬ বছর বিএনপির যে আন্দোলন ছিল তার অন্যতম দাবি ছিল, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করা।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আমরা প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই বলেছিলাম, ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে জুলাই সনদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দিতে হবে। কিন্তু সেই রাষ্ট্রপতিকে আরও ছয় মাস রেখে দেওয়া হয়েছে।’
রাষ্ট্রপতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘তাকে এখন কোনো ধরনের প্রি-এক্সিট (আগাম অব্যাহতি) দেওয়া হয়েছে কি না, বিচার বা জবাবদিহির আওতায় আনা হবে কি না, এ নিয়েও আমাদের সন্দেহ রয়েছে। এ ছয় মাস সময় বাড়ানোর পেছনে কী ধরনের পরিকল্পনা বা পাঁয়তারা রয়েছে, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি, পরবর্তী পাঁচ বছর যে সময় অতিক্রম হবে সেই সময়ে এই (নতুন) রাষ্ট্রপতি থাকবেন। তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী হবে, রাষ্ট্রপতি নিজে কী ভূমিকা পালন করবেন- এসব বিষয় জাতির সামনে একটি বড় প্রশ্ন তৈরি করছে।’
অতীতের রাজনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতা নিজেদের হাতে ধরে রাখার চেষ্টা দেখা গেছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে ১১ দলের বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে। ১১ দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আমরা অংশ নেবো। ১১ দলের পক্ষ থেকে একজন প্রার্থী দেওয়া হবে। সংসদে ও সংসদের বাইরে আমাদের ১১ দলের নেতারা রয়েছেন। তাই আমাদের পক্ষ থেকে একজন দলীয় প্রধান রাষ্ট্রপতি প্রার্থী থাকবেন।’ নাহিদ ইসলাম জানান, ১১ দলের জোটের শরিক দল এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘অলি আহমদ বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তিনি রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একাধিকবার জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। আমরা মনে করি, দেশের বর্তমান সংকটের সময়ে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে পারবেন। তার নেতৃত্বে সরকারও সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে বলে আমরা মনে করি।’
বিএনপির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি এখন পর্যন্ত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি। ফলে সর্বসম্মতভাবে একজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যে সুযোগ ছিল তা নষ্ট হয়েছে। বিএনপির একদলীয় এবং সংস্কারবিরোধী অবস্থানের কারণে দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১১ দলের এ সিদ্ধান্তকে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন বলেও জানান নাহিদ ইসলাম।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে চার জ্যেষ্ঠ নেতার নাম নিয়েই জোর আলোচনা চলছে বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহলে। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, দলের প্রতি আনুগত্য এবং সংকটকালে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতার কারণে এই চারজনের মধ্যে একজনের নাম এখন সবচেয়ে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জোরারো আলোচনায় থাকা বাকি তিন জন হলেন— ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। তাদের প্রথম দুজন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। পরের জন স্পীকার ও বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। এই চারজনই বিএনপিতে পোড় খাওয়া নেতা হিসেবে সমাদৃত। তাদের রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। তবে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের প্রার্থী মনোনয়ন দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন শেষ পর্যন্ত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী। তারেক রহমান প্রবীন ও দলের সংকটকালে নেতৃত্ব দেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বেছে নেবেন তিনি।
দলীয় নেতাদের মতে, বিএনপি এবার রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় একজন অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য রাজনীতিককে দেখতে চায়। সে বিবেচনায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দল পরিচালনায় ভূমিকা এবং জাতীয় রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতার কারণে মির্জা ফখরুলের নাম সামনে এসেছে।
তাদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের সময়টাতে দমন-পীড়ন, নির্যাতনে বার বার বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে বয়সের শেষ প্রান্তে কারাগারে থাকতে হয়েছে। তাদের আরেক শীর্ষ নেতা তারেক রহমান ছিলেন লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে। শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে লম্বা সময় ধরে বিএনপির সংকটে এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশের ভেতরে মির্জা ফখরুল ছিলেন দৃশ্যমান মূল নেতৃত্বে।
বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, লন্ডনে নির্বাসনে থেকেই তারেক রহমান তাদের দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু দেশে রাজনীতির মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম সংগঠিত করা এবং বিএনপিকে ঐকবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পেয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছে। প্রয়োজন হলে ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।





