বৈশ্বিক সতর্কতা জারি ইতালির পুলিশের
রোমে বাংলাদেশি পরিবার হত্যাকাণ্ড: মূল সন্দেহভাজনের পরিচয় প্রকাশ
ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যা এবং আরেকজনকে গুরুতর আহত করার বহুল আলোচিত ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজনের ছবি ও পূর্ণাঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাকে গ্রেপ্তারে সহযোগিতা চেয়েছে ইতালির রাষ্ট্রীয় পুলিশ। রোমের প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত তদন্তে অভিযুক্তের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিতে বিশ্বব্যাপী আহ্বান জানানো হয়েছে, যা ঘটনাটির গুরুত্ব ও আন্তর্জাতিক মাত্রাকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
শনিবার (২৭ জুন) রাতে রোমের প্রসিকিউটর কার্যালয়ের নির্দেশনায় ইতালির রাষ্ট্রীয় পুলিশ পোলিজিয়া দি স্তাতো তাদের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে একটি ‘ওয়ান্টেড নোটিশ’ প্রকাশ করে। এতে হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শাহাদাত হোসেন নামে এক বাংলাদেশি নাগরিকের ছবি, পরিচয় এবং ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়।
আরও পড়ুন: প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শাহাদাত হোসেনের জন্ম ১৯৮৩ সালের ১০ মে বাংলাদেশে। ৪৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তার অবস্থান বা গ্রেপ্তারে সহায়ক হতে পারে—এমন যেকোনো তথ্য দ্রুত রোম পুলিশের মোবাইল স্কোয়াডের বিশেষ হটলাইন ৩৩৪৬৯০৩২৯৫ নম্বরে জানানোর জন্য বিশ্বব্যাপী অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে রোমের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী আরজু আক্তার (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা আরোয়া ইসলাম আরিশা।
আরও পড়ুন: কৃষ্ণগহ্বর গবেষণায় ড. এম এ কাইয়ুম কন্যা অনন্যার অসাধারণ সাফল্য
এ হামলায় গুরুতর আহত হন পরিবারের ২০ বছর বয়সী ছেলে অয়ন। পুলিশ তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, তিনি নিবিড় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত কামাল উদ্দিন বাবুলের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিবার নিয়ে ইতালির রাজধানী রোমে বসবাস করছিলেন। তার আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে ইতালিপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে নোয়াখালীতে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য, অভিযুক্তের সঙ্গে নিহত পরিবারের সম্পর্ক এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা গেলে এই বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে।
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করা এ ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।





