শেখ হাসিনার দিল্লির সংবাদ সম্মেলন ঘিরে ফের টানাপোড়েনে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, ০৯ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫৯ অপরাহ্ন, ০৯ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়কে কেন্দ্র করে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। অন্যদিকে ভারত সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের বিরুদ্ধে দেওয়া কোনো বক্তব্য তারা সমর্থন করে না।

রোববার (৯ আগস্ট) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

আরও পড়ুন: মাতারবাড়ি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই দিন রাতেই এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে। বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকীর দিনে দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার গভীরভাবে হতাশ।

আরও পড়ুন: হেলিকপ্টারে কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী

ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা যেন ভারতের মাটি ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড চালাতে না পারেন, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আগেই ভারত সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে এ ধরনের আয়োজন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও ভারতকে জানানো হয়েছিল।

তবে বাংলাদেশের আপত্তির পরও দিল্লিতে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ঢাকা। বিএনপি সরকারের কয়েকজন নেতাও এ ঘটনায় ভারত সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। তারা ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া অব্যাহত থাকলে তা বাংলাদেশের জনগণের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ইস্যু রয়েছে, যেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। বাংলাদেশ আলোচনায় বসতে চায়, তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ভারতকেই নিতে হবে।

অন্যদিকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই এবং অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যও তারা সমর্থন করে না। বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্যকে ভারত সমর্থন করে না বলেও জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তবে ভারতের এ অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির। তার মতে, শেখ হাসিনার দিল্লির সংবাদ সম্মেলনের ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নের যে প্রচেষ্টা চলছিল, সেটির জন্য সহায়ক নয়।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। তার ভারতে অবস্থান এবং প্রত্যর্পণ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার পর তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে ভারতকে কূটনৈতিক নোটও পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ভারত সে সময় বাংলাদেশের অনুরোধে ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ দৃশ্যমান হয় বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ ও সফরের মধ্য দিয়ে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা শুরু হয়।

তবে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সেখান থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবিরের মতে, সম্পর্ক উন্নয়নের যে প্রচেষ্টা ছিল, সাম্প্রতিক ঘটনাটি তার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে উভয় পক্ষেরই রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কূটনৈতিক সংলাপ প্রয়োজন। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এখন ভারতের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছে ঢাকা।