প্লাস্টিক দূষণ রোধে নারায়ণগঞ্জে প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের সচেতনতা কর্মসূচি
জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক ক্ষয় ও দূষণের প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রায় তিন দশক ধরে কাজ করে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন (Practical Action)। প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে নারায়ণগঞ্জে দুই দিনের বিশেষ কর্মসূচি আয়োজন করেছে সংগঠনটি।
People’s Adaptation Plans for Inclusive, Climate-Resilient Urban Service Delivery in Narayanganj City Corporation প্রকল্পের অধীনে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় ১১ ও ১২ মার্চ এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন: আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রবেশ ও পার্কিং নির্দেশনা
কর্মসূচির প্রথম দিনে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নিয়ে একটি সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি পার্কে রচনা, ছবি আঁকা ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ সময় সিটি পার্কে চারটি বর্জ্য বিনও প্রদান করা হয়।
দ্বিতীয় দিন ১২ মার্চ নারায়ণগঞ্জ নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
আরও পড়ুন: দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ জোরদারের ওপর গুরুত্ব: সিভিল এভিয়েশন একাডেমির সেমিনারে বক্তারা
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুর কুতুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত শবনম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের শহর পরিকল্পনাবিদ মইনুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, একসময় শীতলক্ষ্যা নদীর পানি এত পরিষ্কার ছিল যে অনেকেই তা পান করতেন। কিন্তু বর্তমানে নদীর পানি এতটাই দূষিত হয়ে গেছে যে পার হতে গেলেও দুর্গন্ধে নাক চেপে ধরতে হয়। তিনি বলেন, শীতলক্ষ্যা একসময় মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ ছিল, কিন্তু এখন সেখানে মাছ প্রায় নেই। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিক আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে। হঠাৎ করেই এটিকে সমাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এর ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত শবনম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যাও মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলছে। অতিরিক্ত প্লাস্টিক ব্যবহারের ফলে মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন মাছের পেট থেকে শুরু করে মানব ভ্রূণ ও মস্তিষ্কেও পাওয়া যাচ্ছে। তাই প্লাস্টিক ব্যবহারে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি এটিকে সঠিকভাবে পুনর্ব্যবহার ও সম্পদ হিসেবে ব্যবহারের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
আয়োজকরা জানান, প্লাস্টিকের সঠিক ব্যবহার ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও দেশব্যাপী এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।





